সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
ইসলামী ব্যাংকের সামনে আজও আন্দোলনে গ্রাহকরা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। গ্রাহকদের এই কর্মসূচি ঘিরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। প্রস্তুতে রয়েছে জলকামান ও সাঁজোয়া যান।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী এই বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে কয়েক শত সচেতন গ্রাহক অংশগ্রহণ করেছেন।
আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ কারণে তারা নিয়োগ বাতিল, ব্যাংকের পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক এমডিকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন।
মানববন্ধন থেকে আব্দুল হান্নান খন্দকার নামে একজন গ্রাহক বলেন, ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে গ্রাহকদের আমানত সংরক্ষণ করে আসছে এবং সুদমুক্তভাবে এই ব্যাংকটি বাংলাদেশে পরিচালিত হয়ে আসছে। বিগত স্বৈরাচারী সরকার এই ব্যাংকটিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে এস আলম গ্রুপকে এর দায়িত্ব দেয়। তারা এই ব্যাংকের অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করে ব্যাংকটিকে ধ্বংসের কিনারে নিয়ে এসেছিল।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে যখন নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তখন ইসলামপ্রিয় এবং স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থায় বিশ্বাসী মানুষরা তাদের যা কিছু আছে তা নিয়ে পুনরায় ইসলামী ব্যাংকে বিনিয়োগ শুরু করেন। ব্যাংকটি যখন আবার তার আগের অবস্থানে ফেরার চেষ্টা করছে এবং নিজের শক্তিতে ব্যাংকিং পরিচালনা করছে, ঠিক তখনই একটি কুচক্রী মহল ব্যাংকটিকে আবারও ধ্বংস করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
এই গ্রাহক আরও বলেন, খুরশিদ আলমকে এই ব্যাংকের চেয়ারম্যান করে আবারও ব্যাংকটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষ এবং আমানতকারীরা এই ব্যাংককে আর লুণ্ঠনকারীদের হাতে ছেড়ে দেবে না। এই ব্যাংকে প্রবাসীদের আস্থা রয়েছে এবং তারা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে ব্যাংকটিকে সচল রাখবেন। সকল আমানতকারীকে তাদের আমানত ইসলামী ব্যাংকে রেখে একে আগের মতো সফল করার এবং পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল। একই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক তাঁকে এই পদে নিয়োগ দেয়।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, এর প্রতিবাদে ঈদের ছুটির মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করে আসছে ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার সমাবেশ আহ্বান করা হয়। এতে পুলিশ বাধা দেয়। পাশাপাশি লাঠিচার্জ, জলকামান ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে প্রায় ২৫ জন গ্রাহক আহত হয় বলে দাবি সচেতন গ্রাহক ফোরামের।
এতে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সভা বাতিল হয়ে যায়। তবে গভীর রাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে অনলাইনে পরিচালনা পরিষদের সভা করে ব্যাংকটি। দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সভায় ব্যাংকের এমডি ও কোম্পানি সচিবকে দেখা যায়নি। সে জন্য সচেতন গ্রাহক ফোরাম এখন সব পর্ষদ সদস্যের পদত্যাগ দাবি করছে।
২০১৭ সালে গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। ২০২৪ সালের গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নিয়ন্ত্রণ হারায় গ্রুপটি। এর পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ করা স্বতন্ত্র পরিচালকেরা ব্যাংকটি পরিচালনা করছেন।
এদিকে গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান সাংবাদিকদের জানান, একটি রাজনৈতিক দল ইসলামী ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করছে। কোনো ব্যাংকে রাজনৈতিক প্রভাব মেনে নেওয়া হবে না। সড়কে আন্দোলন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনা যাবে না।
২০১৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ছিল ৪ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশে। ব্যাংকটির ৯৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ এখন খেলাপি।
