ভোলা
টানা বৃষ্টিতে বিপাকে কৃষক, ২৬ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি
ভোলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ভোলায় চলতি মাসের অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় প্রায় ৪ হাজার মেট্রিক টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এতে ২৬ কোটি ৪৩ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২৩ হাজারের বেশি কৃষক।
কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অতিবৃষ্টিতে ভোলায় ১ হাজার ৪২৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৫ হেক্টর সয়াবিন, ৬৯৫ হেক্টর চিনাবাদাম, ১৫০ হেক্টর মুগডাল, ৩৫ হেক্টর ফেলন ডাল, ৬৮ হেক্টর শাকসবজি ও ১০০ হেক্টর কাঁচামরিচ রয়েছে। এতে মোট ৩ হাজার ৯৬৭ মেট্রিক টন ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
সরেজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া, কাচিয়া, চরসামাইয়া, আলীনগর ও বাপ্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন ফসলের মাঠ ঘুরে দেখা যায়, চলতি মে মাসে হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এসব মাঠ জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। সয়াবিন, চিনাবাদাম, ফেলন ও মুগডালসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে ডুবে পচে গেছে। কোথাও কোথাও কৃষকেরা অবশিষ্ট ফসল সংগ্রহ করার চেষ্টা করছেন; আবার কোথাও কোথাও লাভের আশা নেই বলে ফসল সংগ্রহ থেকে বিরত থাকছেন কৃষকেরা।
কৃষকেরা জানান, বীজ বপন থেকে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত ফসলের জন্য শুকনো খেতই সবচেয়ে উপযোগী। তাদের মতে, জলাবদ্ধতা মানেই কৃষকের জন্য বড় ক্ষতি।
কৃষক ইউনুস পাটোয়ারী বলেন, ‘ধারদেনা করে ৬ গণ্ডা (৮৪ শতাংশ) জমিতে সয়াবিনের আবাদ করেছিলাম। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ভালো ফলন হয়েছিল, কিন্তু মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে গেল। আশা ছিল, মে মাসের মাঝামাঝিতে ফসল ঘরে তুলব। কিন্তু অতিবৃষ্টিতে আমার ৬ গণ্ডা জমির সয়াবিনের মধ্যে ৪ গণ্ডার সয়াবিন খেতই পুরোপুরি পচে গেছে। বাকি ২ গণ্ডাতেও কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। আমার প্রায় ১ লাখ টাকার সয়াবিন খেতই পচে গেছে। অবশিষ্ট ফসল কর্তন করলে শ্রমিকের খরচও উঠবে না, তাই ফসল খেতেই ফেলে রেখেছি।’
কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, ‘এবার ৩ গণ্ডা জমিতে চিনাবাদাম চাষ করেছি। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে ফসল তুলব বলে ভেবে রেখেছিলাম। কিন্তু খেতে বৃষ্টির পানি জমে গিয়ে মাটির মধ্যেই সব বাদাম পচে গেছে। গাছগুলোও মরে গেছে। এ ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠব, তা বুঝতে পারছি না। সরকারি সহযোগিতা না পেলে আগামীতে ফসলের আবাদ করতে পারব কিনা, তাও জানি না।’
এ বিষয়ে ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. শামীম আহমেদ বলেন, ‘অতিবৃষ্টিতে খেতে পানি জমে যাওয়ার কারণে কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’ এ ছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা যাতে ঘুরে দাঁড়াতে পারেন, সেজন্য সরকারিভাবে তাদেরকে সহযোগিতা দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
