ঈদকে সামনে রেখে মসলার বাজারে দাম বৃদ্ধি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানীর মসলার বাজারে বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজ, রসুন, কাঁচামরিচ, জিরা ও জিরার গুঁড়াসহ একাধিক মসলার দামে উল্লেখযোগ্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বাড়তি চাহিদা ও আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিকে দায়ী করলেও সাধারণ ক্রেতারা বাড়তি দামের চাপে পড়েছেন। ঈদকে কেন্দ্র করে বাজারে ক্রেতার ভিড় বাড়লেও ব্যয় নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কেজিপ্রতি পেঁয়াজ ৪৫–৫০ টাকা, দেশি রসুন ১২০–১৪০ টাকা, কাঁচামরিচ ১৪০ টাকা, আমদানি করা চীনা রসুন ১৮০ টাকা, তেজপাতা ১৮০–২২০ টাকা, আদা ২০০ টাকা, ধনিয়ার গুঁড়া ২০০–২৮০ টাকা, হলুদ গুঁড়া ৪০০ টাকা, সয়াবিন তেল (দুই লিটার) ৪৪০ টাকা, শুকনো মরিচ গুঁড়া ৫০০ টাকা, দারুচিনি ৫০০–৬০০ টাকা, জিরা ৭০০ টাকা, জিরার গুঁড়া ৮০০ টাকা, লবঙ্গ ১৪০০–১৬০০ টাকা এবং এলাচ ৪৬০০–৫৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অথচ এপ্রিল মাসে এসব পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে কম ছিল। তখন পেঁয়াজ ৩০–৪৫ টাকা, দেশি রসুন ৮০–১১০ টাকা, কাঁচামরিচ ১০০ টাকা, আদা ১৮০ টাকা, সয়াবিন তেল (দুই লিটার) ৩৯০–৪০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০–৫০০ টাকা, জিরা ৫৮০ টাকা, জিরার গুঁড়া ৬৫০ টাকা এবং লবঙ্গ ১৩৫০–১৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এলাচের দাম তখনও ৪৬০০–৫৫০০ টাকায় স্থিতিশীল ছিল।
আরো পড়ুন : খাদ্য সংকটে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশ
এপ্রিলের তুলনায় বর্তমানে পেঁয়াজের দাম ৫–১৫ টাকা, দেশি রসুন ৩০ টাকা, কাঁচামরিচ ৪০ টাকা, আদা ২০ টাকা, সয়াবিন তেল (দুই লিটার) ৪০–৫০ টাকা, দারুচিনি ৫০–১০০ টাকা, জিরা ১২০ টাকা, জিরার গুঁড়া ১৫০ টাকা এবং লবঙ্গ ৫০–২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
অন্যদিকে আমদানি করা চীনা রসুন, তেজপাতা, ধনিয়ার গুঁড়া, হলুদ গুঁড়া, শুকনো মরিচ গুঁড়া ও এলাচের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি।
বাজারে আসা ক্রেতা তাসলিমা আক্তার বলেন, “শুধু ঈদের আগে না, সব উৎসবের আগেই প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বেড়ে যায়। আগে এক হাজার টাকায় যে বাজার হতো, এখন একই জিনিস কিনতে অনেক বেশি টাকা লাগছে।”
মসলা ব্যবসায়ী রুবেল হাসান বলেন, ঈদে চাহিদা বাড়ায় বাজারে বিক্রি বেড়ে যায় এবং আমদানি দামে চাপ থাকে। তাই দামে পরিবর্তন আসে। তবে এবার গত বছরের তুলনায় ক্রেতা কিছুটা কম বলে তিনি জানান।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ঈদ মৌসুমে মসলার চাহিদা বাড়ায় কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি স্বাভাবিক। তবে এবার দাম তুলনামূলক কম বেড়েছে। কিছু পণ্যে ১০–২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি দেখা গেলেও কয়েকটি পণ্যের দাম স্থিতিশীল রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাজারে সরবরাহ ও আমদানি পরিস্থিতির কারণে কিছু চাপ তৈরি হলেও সামগ্রিকভাবে দাম বড় ধরনের অস্থির হয়নি। পাশাপাশি সয়াবিন তেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়েও তিনি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করেন।
