আহত ছাত্রদল নেতার মৃত্যু, প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগ
মীরসরাই (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে হামলায় গুরুতর আহত শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় (২৬) নামে এক ছাত্রদল নেতা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। হৃদয় করেরহাট ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে গত ১৮ এপ্রিল রাতে উপজেলার কয়লা বাজারে তার ওপর হামলা করা হয়।
ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে করেরহাট ইউনিয়নের কয়লা বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে কয়লা এলাকায় বারইয়ারহাট–খাগড়াছড়ি সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা দুলালের বাড়িতে হামলার ঘটনাও ঘটে।
জানা গেছে, গত ১৮ এপ্রিল রাতে কয়লা বাজারে ভারতীয় সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে আনা গরুবাহী একটি ট্রাক স্থানীয়রা আটক করে। গরুগুলো বদ্ধভবানী এলাকার বিএনপি নেতা মো. টিপু ও আব্দুর রহিমের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসছিলেন টিপুর ভাই সুমন। এ সময় ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করেন স্থানীয় যুবদল নেতা সবুজ ও তার সহযোগীরা। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সুমনকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
পরে আব্দুর রহিম কয়লা এলাকার বিএনপি নেতা আব্দুল আলিমকে ফোন করে বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানান। তিনি ব্যস্ত থাকায় যেতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ছেলেকে পাঠাতে বলা হয়। এরপর আব্দুল আলিম তার ছেলে শাহরিয়ার আহমেদ হৃদয় এবং আনোয়ার হোসেনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। প্রায় ১৫ মিনিট পর তাদের ওপর হামলার খবর পাওয়া যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
ছাত্রদল নেতা হৃদয়ের বাবা আব্দুল আলিম বলেন, “অবৈধ গরু ব্যবসায়ী টিপু ও তার লোকজন পরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ওই দিন রাতে টিপুর সহযোগী রহিম বারবার ফোন দিয়ে তাদের গরুর ট্রাক কে আটক করেছে তা দেখতে বলেন। আমি সারাদিন বাইরে থাকায় যেতে পারিনি, পরে আমার ছেলেকে পাঠাই। ১৫ মিনিট পরই তার ওপর হামলার খবর পাই। পাঁচ দিন প্রাণপণ চেষ্টা করেও ছেলেকে বাঁচাতে পারিনি।”
এ বিষয়ে জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বলেন, আহত হৃদয় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর খবরে এলাকায় কিছু লোক জড়ো হয়ে সড়ক অবরোধ করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিকালে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
