শান্তিগঞ্জে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলেছে
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:০৮ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বীরনিবাস পাচ্ছেন ১২ মুক্তিযোদ্ধা পরিবার। অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের ৯টি গ্রামে অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য এসব ঘর নির্মাণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে প্রথম পর্যায়ে বাদুল্লাপুর, জয়কলস, বীরকলস, পশ্চিম পাগলা, কান্দাগাঁও (পাথারিয়া), ঠাকুরভোগ, সাপেরকোনা, রনসী গ্রামে ১২টি পাকা ঘর নির্মাণ কাজ করা হয়েছে। তন্মধ্যে ৬টি ঘরের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকী ৬টি ঘরের কাজ বন্যার কারণে পিছিয়ে গেছে। অসচ্ছল-শহীদ-প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রী ও সন্তানদের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ লাখ ১০ হাজার টাকা ব্যয়ে প্রতিটি পাকা ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এর অংশ হিসেবেই শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ১২টি পাকা ঘর বীর মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারি ভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ১০ ফুট প্রস্থ ১০ ফুট দৈর্ঘ্য, ১০ ফুট প্রস্থ আর ১২ ফুট দৈর্ঘ্যের ঘরটিতে দুটি বেডরুম, একটি ড্রইংরুম, একটি ডাইনিং রুম, একটি রান্নাঘর, দুটি বাথরুমসহ থাকছে সুপেয় পানির ব্যবস্থা।
জয়কলস গ্রামের বীর নিবাসের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা অবনী বিশ্বাস বলেন, আমি একজন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা। ভিটে মাটি ছাড়া আর কোন কিছুই আমার নেই। জীবনের শেষ বয়সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের মাধ্যমে মাথা গোঁজার ঠাই পেয়েছি। এখন মরে গেলেও শান্তি পাব।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতাউর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাঁজি রেখে মুক্তির সংগ্রাম করেছেন। আজ তাদের অনেকই অস্বচ্ছল এবং হতদরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোক। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার পাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়ায় আজ অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই মিলেছে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন ভূইয়া বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় প্রথম পর্যায়ে ১২ জন অসচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ঘর পাচ্ছেন। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অসচ্ছল পরিবারগুলোর জন্য বীর নিবাস নির্মাণ করছে সরকার। বিগত আকষ্মিক বন্যায় কাজ বাস্তবায়নে কিছুটা বিলম্ব হলেও অধিকাংশ ঘরের নির্মাণ কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। উদ্বোধনের জন্য বেশ কিছু ঘর প্রস্তুত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
