চিন্ময় দাসের জামিন: জেলা পিপির ‘বিশেষ নির্দেশনা’ নিয়ে আদালতপাড়ায় তোলপাড়
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদন নিয়ে জেলা পিপির ‘বিশেষ নির্দেশনা’কে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালতপাড়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে সরকারি আইনজীবীদের ‘পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওই সরকারি কৌঁসুলির দেয়া একটি মেসেজকে কেন্দ্র করে চলছে তোলপাড়।
চট্টগ্রামের একজন আইনজীবী হোয়াটসঅ্যাপে আলাপচারিতার ওই মেসেজ গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আইনজীবী জানান, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিনের শুনানি এগিয়ে আনতে চট্টগ্রাম জেলা পিপি আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সকালে একটি নির্দেশনা দেন। তিনি সরকারি আইনজীবীদের ‘পাবলিক প্রসিকিউটরস অফিস’ নামের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে লিখেছেন, ‘আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আজকে ইসকনের মামলায় ঢাকার একজন আইনজীবী মুভ করতে পারেন।’
আশরাফ হোসেন লিখেছেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য ওপর থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ব্যাপারটা সরকার ফলোআপে আছে। এই বার্তার পর গ্রুপের কয়েকজন সদস্য তাতে সম্মতি জানালেও এক আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, এটা কেমন কথা হলো, সম্মানিত পিপি মহোদয়! তাহলে আমরা কি শহীদ আলিফের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করতে পারি? তখন জেলা পিপি উত্তর দেন, সরকারের তরফ থেকে নির্দেশনা।
আশরাফ হোসেনের এই নির্দেশনা নিয়ে আদালতপাড়ায় সৃষ্টি হয় ব্যাপক তোলপাড়। এ ব্যাপারে চট্টগ্রামের আইনজীবীরা বলেন, চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের রক্তের দাগ এখনো রয়েছে গেছে, যা শুকায়নি। তার হত্যাকাণ্ডের পর ইসকন সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের পরও চিন্ময় দাসের জামিন আবেদনের বিষয়ে নতুন আইনজীবীর আগমন তাদের ভীষণ ক্ষুব্ধ করেছে। তবে এ ব্যাপারে কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দেননি।
জেলা পিপি আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে নির্দেশনা দেয়ার ব্যাপারে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন।
এ প্রমঙ্গে জানতে চাইলে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আইনজীবী শফিউল মোরশেদ চৌধুরী বলেন, জেলা পিপি এ ধরনের নির্দেশনা দিয়ে থাকলে সেটা দুঃখজনক। এ ধরনের নির্দেশনা তিনি দিতে পারেন না।
এদিকে, আলিফ হত্যার ঘটনায় ইসকন সমর্থকদের হামলা-ভাঙচুরের মামলায় জামিনের আবেদন জানানো হয় অতিরিক্ত মহানগর পিপি অ্যাডভোকেট নেজাম উদ্দিনের পক্ষ থেকে। ২ ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় আইনজীবীরা বিক্ষোভ দেখান। তাদের চাপের মুখে অতিরিক্ত মহানগর পিপি নেজাম উদ্দিন ওই দিনই বিকেলে নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
আদালতের তথ্যমতে, আগামী ২ জানুয়ারি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ৭ ডিসেম্বর আইনজীবী আলিফের হত্যার পর চিন্ময় কারাগারে গেলেও তার পক্ষে কেউ আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে আসেননি। বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে চিন্ময়ের জামিন আবেদন শুনানি এগিয়ে আনার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু আবেদনটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় না হওয়ায় আদালত তা খারিজ করে দেন।
