মাদকসেবনে বাধা দেওয়ায় জবি শিক্ষকের ওপর হামলা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ঢাকার কেরানীগঞ্জে মাদকসেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) এক শিক্ষক ও তার পিতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় এক যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
কারাগারে যাওয়া আসামি হলেন-এহসানুর হক মাহিম (২২)। একই সঙ্গে রোববার (১২ এপ্রিল) মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের আইনজীবী খালিদ হোসাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর পুলিশ অভিযুক্ত মাহিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে।
পরে শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৪৫ মিনিটে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন কালিন্দী ইউনিয়নের মাদারীপুর সড়ক-২ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. রাইসুল ইসলামের বাড়ির সামনে দীর্ঘদিন ধরে আড্ডাবাজি ও মাদকসেবন করে আসছিলেন অভিযুক্ত মাহিম। বিষয়টি নিয়ে নিষেধ করলে তিনি বিভিন্ন সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের হুমকি দেন।
ঘটনার দিন শিক্ষক রাইসুল ইসলামের পিতা নজরুল ইসলাম (৬৭) অভিযুক্তকে আড্ডা দিতে নিষেধ করলে মাহিম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং একপর্যায়ে মাটিতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তা চোখের নিচে লেগে তিনি জখম হন।
এ সময় তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে উত্তেজিত জনতা মাহিমকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।
এ ঘটনায় শিক্ষক রাইসুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তার পিতার পকেটে থাকা নগদ প্রায় ৬ হাজার টাকা অভিযুক্ত কৌশলে নিয়ে যায়।
ঘটনার পরদিন থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে বিষয়টি গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।
এদিকে এদিন শুক্রবার আদালতে আসামিকে তোলার সময় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
