বাংলাদেশ ইস্যুতে বিসিবির পাশে পিসিবি, আইসিসিকে চিঠি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যেই রয়েছে। নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতে খেলতে না যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) চাইছে, নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতেই খেলুক বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।
পিসিবির গভর্নিং বডি বিসিবির অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আইসিসিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই চিঠির অনুলিপি আইসিসির অন্যান্য সদস্য দেশগুলোকেও পাঠানো হয়েছে।
ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে বিসিবি আগেই আইসিসির কাছে নিজেদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল। এই ইস্যুতে আলোচনার জন্য আজ বুধবার একটি বৈঠক ডেকেছে আইসিসি। তবে পিসিবির পাঠানো চিঠির পরেই এই সভা আহ্বান করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ ইস্যুতে আইসিসি যখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পথে এগোচ্ছে, ঠিক সেই সময় পিসিবির এই সমর্থনমূলক চিঠি বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে কিছুটা বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। যদিও ধারণা করা হচ্ছে, পিসিবির অবস্থান আইসিসির সিদ্ধান্তে বড় কোনো প্রভাব ফেলবে না।
ক্রিকইনফো জানিয়েছে, ভেন্যু কিংবা সূচি পরিবর্তনের সম্ভাবনা খুবই কম। গত সপ্তাহে বিসিবির সঙ্গে আইসিসির সর্বশেষ বৈঠকেও উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিল। একাধিক দফা আলোচনা হলেও বাংলাদেশের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে তৈরি হওয়া অচলাবস্থার কোনো সমাধান আসেনি।
এ অবস্থায় আইসিসি বিসিবিকে নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছে বলে দাবি করেছে ক্রিকইনফো। তবে বিসিবি আগেই জানিয়েছে, আইসিসির পক্ষ থেকে তারা কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা পায়নি।
এদিকে বিশ্বকাপ শুরুর সময়ও ঘনিয়ে এসেছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে শুরু হচ্ছে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, লিগ পর্বে বাংলাদেশের তিনটি ম্যাচ কলকাতায় এবং একটি ম্যাচ মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে পাকিস্তানও ভারতের মাটিতে খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে ভারত–পাকিস্তান ম্যাচের জন্য হাইব্রিড মডেলে নিরপেক্ষ ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমাধানের দাবি উঠেছে। শেষ মুহূর্তে পাকিস্তানের প্রকাশ্য সমর্থন পরিস্থিতিকে আরও নাটকীয় করে তুলেছে।
এর আগে গুঞ্জন উঠেছিল, বাংলাদেশের ম্যাচগুলো পাকিস্তানে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে অথবা বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললে পাকিস্তানও নিজেদের অংশগ্রহণ পুনর্বিবেচনা করতে পারে। তবে এসব আলোচনা গুঞ্জনেই সীমাবদ্ধ ছিল। পিসিবিও এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
