গ্রিনল্যান্ড দখলের সিদ্ধান্তে অনড় ট্রাম্প
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনা থেকে সরে আসার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে আবারও স্পষ্ট করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত থেকে ‘পিছু হটার আর কোনো সুযোগ নেই’ এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘অপরিহার্য’। খবর বিবিসির।
হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রিনল্যান্ড দখলে কতটা দূর যেতে তিনি প্রস্তুত—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সময় হলে আপনারা ঠিকই জানতে পারবেন।’
গ্রিনল্যান্ড দখলে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনাও পুরোপুরি নাকচ করেননি ট্রাম্প। এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও তার বক্তব্যে বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের ভিসা বন্ড দিতে হবে না
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে (ডব্লিউইএফ) ট্রাম্পের এই অনড় অবস্থানের কঠোর সমালোচনা করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ম্যাক্রোঁ সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের অবস্থান বিশ্বকে এক ধরনের আইনহীন ব্যবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে মার্ক কার্নি বলেন, অতীতের পরিচিত বৈশ্বিক ব্যবস্থায় আর ফিরে যাওয়ার সুযোগ নেই।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দাভোসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে ট্রাম্পের। সেখানে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এ বিষয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই।
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বিরোধিতার জেরে আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর জবাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নও পালটা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছেন তারই এক সাবেক উপদেষ্টা। পাশাপাশি এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে সামরিক জোট ন্যাটোর ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ট্রাম্প ন্যাটোর প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করেছেন, তবে সংকটের মুহূর্তে এই জোট যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াবে কিনা—সে বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
