×

অপরাধ

মুছাব্বির হত্যাকাণ্ড

অস্পষ্ট ফুটেজ থেকে রহস্য উন্মোচন করলো ডিবি

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:০৪ পিএম

অস্পষ্ট ফুটেজ থেকে রহস্য উন্মোচন করলো ডিবি

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর তেজতুরী বাজার এলাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির (৪৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একটি অস্পষ্ট সাত সেকেন্ডের সিসিটিভি ফুটেজ থেকেই মিলেছে এই হত্যার মূল সূত্র।

এ ঘটনায় মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), যার তদারকি করছেন ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম।

তদন্তে ডিবি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ সংগ্রহ করে, যেখানে দেখা যায়— মুছাব্বির গলিতে ঢোকার আগে ডাস্টবিনের আড়াল থেকে এক ব্যক্তি উঁকি দিচ্ছেন এবং কানে মোবাইল ফোন ধরে আছেন। মাত্র সাত সেকেন্ডের এই দৃশ্য থেকেই সন্দেহ তৈরি হয়, ওই ব্যক্তি হয়তো ফোনে কারও কাছে মুছাব্বিরের অবস্থান জানাচ্ছিলেন।

ফুটেজটি অত্যন্ত অস্পষ্ট হওয়ায় শুরুতে কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় ওই সময় গলি ও আশপাশ এলাকায় সক্রিয় মোবাইল নম্বরগুলো বিশ্লেষণ করে একটি দীর্ঘ তালিকা তৈরি করে ডিবি। শত শত নম্বর যাচাই-বাছাই শেষে একটি সন্দেহজনক নম্বর শনাক্ত করা হয়, যা তদন্তকে এগিয়ে নেয়।

ডিবি সূত্র জানায়, ওই নম্বরের মালিক বিল্লাল এবং ফোনের অপর প্রান্তে ছিলেন তাঁর ভাই আবদুর রহিম। ঘটনার সময় রহিম একই গলিতে অবস্থান করছিলেন এবং তিনিই ছিলেন শুটারদের একজন।

তদন্তে আরও জানা যায়, বিল্লাল ফোনে মুছাব্বিরের অবস্থান জানিয়ে দেন। গলির ভেতরে আগে থেকেই ওত পেতে ছিলেন রহিম ও তাঁর সহযোগী জিন্নাত। মুছাব্বির কিছু দূর এগোতেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা সুফিয়ান ব্যাপারী মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। পুরো ঘটনাটি ঘটে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে।

এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত বিল্লাল, আবদুর রহিম ও জিন্নাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া হত্যার পরিকল্পনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আবদুল কাদির ও মো. রিয়াজকেও গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গ্রেপ্তারদের মধ্যে বিল্লাল, রহিম ও কাদির আপন তিন ভাই। কাদির খুনিদের পালাতে সহায়তা করেন।

ডিবি জানায়, গত ১০ জানুয়ারি গাজীপুরের গাছা এলাকা থেকে জিন্নাত ও রিয়াজকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে মানিকগঞ্জ থেকে বিল্লাল এবং নাখালপাড়া থেকে আবদুল কাদিরকে আটক করা হয়। পরে ২৩ জানুয়ারি নরসিংদী থেকে গ্রেপ্তার করা হয় শুটার আবদুর রহিমকে।

গ্রেপ্তার জিন্নাত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি জানান, বিল্লালই ছিলেন হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও অস্ত্রের জোগানদাতা।

ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মুছাব্বিরকে গুলি করেন দুজন—জিন্নাত ও রহিম। তাঁরা টাকার বিনিময়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।’

ঘটনাস্থল থেকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ডিবির তথ্যমতে, এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ দীলিপ ওরফে বিনাশ, যিনি দেশের বাইরে থেকে নির্দেশ দেন। আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘একটি অস্পষ্ট ফুটেজ থেকে হত্যার সূত্র বের করা প্রথমে অত্যন্ত কঠিন মনে হচ্ছিল। তবে ধারাবাহিক বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির ব্যবহার—এই দুইয়ের সমন্বয়ে সেই কঠিন কাজ সম্ভব হয়েছে।’

এই ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

তনু হত্যা মামলা সাবেক দুই সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’

‘রূপায়ণ সিটি উত্তরা’ যেন ঢাকার ‘ক্যাসিনো সিটি’ পরিচালনায় সম্রাটের ক্যাসিনো পার্টনার কাশেম

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

এক তরুণের কোমরে ৩ পিস্তল, গ্রেপ্তার করল পুলিশ

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

অনুমোদনহীন খাদ্য উৎপাদন, দুই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App