সরকারি ইটে ইউপি মেম্বারের শখের পাকা টয়লেট
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সরকারি রাস্তার ইট তুলে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত ইউপি সদস্য হলেন মির্জাপুর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য আয়েশা বেগম। তিনি উপজেলার পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের বাসিন্দা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, গোপালপুর উপজেলা গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা) মোতাবেক (উপজেলা পরিষদ ওয়ারী) ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে (১ম ও ২য় পর্যায়) পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা ব্যয়ে ৬শ মিটার গ্রামীণ সড়ক বা হালটে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়। গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, পাশেই প্যারাজানি বিল। সেখানে সহস্রাধিক একরে বোরো ও রোপা আবাদ হয়। বিলে হালচাষ এবং সেখান থেকে ফসল ঘরে আনার জন্য সড়কটি একমাত্র অবলম্বন। এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন গ্রামীণ সড়কটি মেরামত ও ইটের সলিং করে।
প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম নিজেই। আর কাজের ঠিকাদারি পান স্বামী তোফাজ্জ্বল হোসেন। কিন্তু দুই মাস আগে ইউপি সদস্য ও তার স্বামী দুজনে মিলে দিন দুপুরে রাস্তার সকল ইট তুলে রিকশা ভ্যানে করে বাড়ি নিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রাস্তা পাকা হবে। তাই ইট তুলে খোয়া বানানো হবে। পরে সেই ইট দিয়ে তারা বাড়িতে পাকা বাথরুম বানায়। এদিকে ইট তুলে নেয়ায় চলতি বর্ষায় রাস্তার মাটি ধসে পড়ছে। ফলে মাঠ থেকে কৃষকরা বোরো ধান বাড়ি নিয়ে আসতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল জানান, স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলা সরকারি টেহায় ইচ্ছামতো ইটের রাস্তা বানিয়েছে। আবার তারাই দিন দুপুরে রাস্তার ইট তুলে নিয়া বাড়িতে গোসলখানা আর পাকা টয়লেট দিয়েছে। এরা প্রভাবশালী। কিছু কইতে গেলেই মাইরতে আসে। তাই সবাই চুপচাপ হইয়া আছে।’ গত রবিবার ওই ইউপি সদস্যের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজের সাইনবোর্ডটি বাথ রুমের পাশে পড়ে রয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যের স্বামী এবং ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি ওই অর্থ বছরে ওই ইউনিয়নের ৪টি গ্রামীণ সড়ক সলিং করার কাজ পান। কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট থেকে যায়। সেই ইট দিয়ে বাড়িতে পাকা বাথরুম বানিয়েছেন। বরাদ্দ দেয়া বাড়তি সরকারি ইট ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কিনা প্রশ্নে জানান, উপজেলা প্রশাসন তো কখনো ইট ফেরত চায়নি। এখানে সাংবাদিকদের কি সমস্যা?
ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম জানান, গ্রামের কিছু দুষ্ট লোক রাতের আধাঁরে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম বানানোর প্রশ্নই আসেনা। ইট চুরির ঘটনা প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি প্রশ্নে জানান, রাস্তাটি পুনঃসংস্কার করার জন্য নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। তাই হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে ভাবা হচ্ছেনা। গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউপি সদস্যকে মাত্র তিন দিন সময় দেয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নিজের টাকায় ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
