এনসিটি ইজারা ইস্যু
চট্টগ্রাম বন্দরে আবার লাগাতার কর্মবিরতির ঘোষণা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আবারও লাগাতার ধর্মঘটের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। দুই দিন কর্মসূচি স্থগিত থাকার পর আগামী রোববার সকাল ৮টা থেকে এই কর্মবিরতি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন এ ঘোষণা দেন। এবারের কর্মসূচির আওতায় বন্দরের বহির্নোঙর এলাকাতেও কাজ বন্ধ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে। কর্মসূচি কার্যকর হলে পুরো বন্দর কার্যক্রম অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত শনিবার থেকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে আট ঘণ্টা করে তিন দিন কর্মবিরতি পালন করে সংগঠনটি। এরপর মঙ্গলবার থেকে শুরু হয় লাগাতার কর্মবিরতি, যার ফলে বন্দরের কনটেইনার পরিবহন কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা দেখা দেয়।
আরো পড়ুন : চট্টগ্রাম বন্দরে বিক্ষোভের মুখে উপদেষ্টা সাখাওয়াত
তবে বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর বিকেলে সংগঠনটির নেতারা লাগাতার কর্মবিরতি দুই দিনের জন্য স্থগিত করেন।
আন্দোলন স্থগিতের পরপরই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আন্দোলনে জড়িত ১৫ জন কর্মচারীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে আবেদন করে। পাশাপাশি তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়। এ ঘটনায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহিম খোকন বলেন, উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে পূর্ণাঙ্গ আশ্বাস না পেলেও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি এবং রোজার পণ্য খালাসের বিষয়টি বিবেচনা করে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল। কিন্তু বৈঠকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সম্পদ তদন্ত ও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার উদ্যোগ নেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, এই অবস্থায় আবার লাগাতার কর্মসূচিতে যাওয়া ছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না।
সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি লিজ না দেওয়ার বিষয়ে সরকারের ঘোষণা, বন্দর চেয়ারম্যানকে প্রত্যাহার করে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বাতিল এবং আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়া।
সংবাদ সম্মেলনে সংগ্রাম পরিষদের নেতা মোহাম্মদ হারুন, তসলিম হোসেন, আবুল কাসেম, ইয়াসিন রেজা রাজু, জাহিদ হোসেন, হারুন, ইমাম হোসেন খোকেন ও শরীফ হোসেন ভুট্টোসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের প্রধান কেন্দ্র। সমুদ্রপথে আমদানি-রপ্তানি হওয়া পণ্যের প্রায় ৭৮ শতাংশ এই বন্দর দিয়ে পরিবহন হয়। কনটেইনার পরিবহনের ক্ষেত্রে এটি কার্যত একমাত্র বন্দর, যেখানে দেশের প্রায় ৯৯ শতাংশ কনটেইনার পরিবহন সম্পন্ন হয়।
বন্দর কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেলে কনটেইনারে রপ্তানি প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি শিল্পকারখানার কাঁচামাল খালাসও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
