নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে কোনো আপস নয়: প্রধান উপদেষ্টা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সময়সূচি নিয়ে কোনো ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনে দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাষ্ট্রের দুই সাবেক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক—আলবার্ট গোম্বিস ও মর্স ট্যানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন তিনি।
বুধবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে ঘিরে পরিকল্পিতভাবে ভুয়া খবর ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। তবে এসব অপচেষ্টা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার ১২ ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তে অটল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “কে কী বলল, তা বিবেচ্য নয়। নির্ধারিত ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে—এর একদিন আগেও নয়, একদিন পরেও নয়।”
ড. ইউনূস জানান, নির্বাচন হবে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে। নির্বাচনকালীন সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে এবং সব রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে পক্ষপাতমুক্ত প্রশাসন পরিচালনা করবে। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে দুই কূটনীতিক আসন্ন নির্বাচন ছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পরিস্থিতি, তরুণ আন্দোলনকারীদের উত্থান, জুলাই সনদ ও গণভোট, নির্বাচনকেন্দ্রিক ভুয়া খবর ও মিসইনফরমেশন, রোহিঙ্গা সংকট এবং জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে ‘ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন’-এর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধান উপদেষ্টা জানান, অন্তর্বর্তী সরকার গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে। জনগণের সম্মতি পেলে জুলাই সনদ গণতান্ত্রিক শাসনের নতুন যুগের সূচনা করবে এবং ভবিষ্যতে স্বৈরশাসনের পথ বন্ধ করবে।
তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থকেরা নির্বাচনকে ঘিরে ভুয়া খবর ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তবে জনগণ এখন সচেতন এবং এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিওও শনাক্ত করতে পারছে।
সাবেক আন্ডার সেক্রেটারি আলবার্ট গোম্বিস এ বিষয়ে একমত পোষণ করে বলেন, ভুয়া খবর বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অন্যতম বড় শত্রুতে পরিণত হয়েছে এবং এই হুমকি মোকাবিলায় আরো জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।
বৈঠকে দুই কূটনীতিক গত দেড় বছরে সরকার পরিচালনায় প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আদলে বাংলাদেশে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন উদ্যোগ সম্ভব কি না, সে বিষয়ে জানতে চান।
জবাবে প্রফেসর ইউনূস বলেন, প্রয়াত নেলসন ম্যান্ডেলার বন্ধু হিসেবে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার সেই প্রক্রিয়া ঘনিষ্ঠভাবে দেখেছেন। তবে অভিযুক্তরা এখনো অপরাধ স্বীকার বা অনুশোচনা না করায় বাংলাদেশে এ মুহূর্তে এমন উদ্যোগ নেওয়ার উপযুক্ত সময় আসেনি।
বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।
