টিআইবির প্রতিবেদনে রাজনৈতিক হত্যার সংখ্যা নিয়ে সরকারের ব্যাখ্যা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম
প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার। ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের হত্যার সংখ্যা নিয়ে প্রকাশিত ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ বিষয়ে সরকারের বক্তব্য তুলে ধরেন।
ব্যাখায় বলা হয়েছে, টিআইবি তাদের প্রতিবেদনে দাবি করেছে-নির্বাচনসূচি ঘোষণা হওয়ার ৩৬ দিনের মধ্যে ১৫ জন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মী নিহত হয়েছেন। তবে সরকার বলছে, এই সংখ্যা সত্যতা যাচাই ছাড়াই দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে মাত্র পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বা প্রোফাইলের সম্পর্ক রয়েছে। এর মধ্যে ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, যাকে মোটরসাইকেল থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
আরো পড়ুন : টিআইবির পর্যবেক্ষণ: গণভোটের প্রচারণায় অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে
সরকারের বক্তব্যে বলা হয়, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই নিন্দনীয় এবং ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত নির্মম। একটি সংবেদনশীল রাজনৈতিক মুহূর্তে ভয় সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মন্তব্য করা হলেও, এতে সামগ্রিক পরিস্থিতি সহিংসতার দিকে গড়ায়নি এবং নির্বাচনি প্রক্রিয়াও বিঘ্নিত হয়নি।
বক্তব্যে আরো বলা হয়, টিআইবির প্রতিবেদনে প্রেক্ষাপটের অভাব রয়েছে। অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের সহিংসতার তথ্য তুলে ধরে বলা হয়— ২০২৪ সালের নির্বাচনে ছয়জন, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ২২ জন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে অন্তত ১১৫ জন নিহত হয়েছিলেন। সেই তুলনায় বর্তমান প্রাক-নির্বাচনি সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে, এমনটি বলা কঠিন বলে মনে করছে সরকার।
সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়, টিআইবি ও সরকারি তথ্যের পার্থক্য কোনো তথ্য গোপনের কারণে নয়; বরং হত্যাকাণ্ড গণনার পদ্ধতির ভিন্নতার কারণে। টিআইবি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত যেকোনো নিহত ব্যক্তিকে নির্বাচনি সহিংসতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে, আর সরকার শুধুমাত্র নির্বাচনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত ঘটনাগুলোকে গণ্য করেছে।
অন্তর্বর্তী সরকার স্বীকার করেছে যে সাধারণ নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাবিত পুলিশিং ও শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন হয়েছিল বলেও উল্লেখ করা হয়। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের অপসারণ বা বরখাস্ত, বিশেষ ইউনিটের ভূমিকা পুনর্বিবেচনা, জোরপূর্বক নিখোঁজ ও নির্যাতনের মামলায় আইনগত পদক্ষেপ এবং নির্বাচনি সময়ের জন্য নির্দিষ্ট নীতি প্রণয়নের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি বক্তব্যে বলা হয়, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালিদা জিয়ার শেষকৃত্য এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তনের মতো ঘটনাগুলো শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা পুলিশি সংযম ও পেশাদারত্বের উদাহরণ।
অন্তর্বর্তী সরকার আরো জানিয়েছে, সম্পূর্ণ সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হলেও বর্তমান পরিস্থিতি অতীতের মতো নয়। নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি, রাজনৈতিক দল ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতি— এসব বিবেচনায় সরকার বিশ্বাস করছে যে আসন্ন নির্বাচনে সহিংসতার চক্র ভাঙা সম্ভব হবে।
