আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার
সনদ জালিয়াতি রোধে কাজ করার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২৭ পিএম
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের সুনাম রক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের সনদের জালিয়াতি প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ) এর গভর্নিং বডির সভায় এই নির্দেশনা দেন তিনি। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কর্তৃপক্ষের এটি দ্বিতীয় গভর্নিং বডির সভা। এর আগে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালে।
সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এনএসডিএ-এর জন্য একটি শক্তিশালী ফ্রেমওয়ার্ক। তবে দক্ষতা প্রশিক্ষণের সনদ জালিয়াতি ও ভুয়া সনদ ব্যবহারের কারণে আমাদের কর্মীদের আন্তর্জাতিক বাজারে সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে। এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করতে হবে।
আরো পড়ুন : চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট: সরকার হার্ডলাইনে, গ্রেপ্তার অভিযান শুরু
তিনি বলেন, দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ সুরক্ষার জন্য নিশ্চিত করতে হবে যে, চাকরিদাতারা যেন বলবেন, বাংলাদেশ থেকে আসা কর্মীরা অবশ্যই ভালো করবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এনএসডিএ কর্তৃক সকল প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন মানের সনদ ব্যবস্থা চালু হলে জালিয়াতি রোধে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, একটি সমন্বিত দক্ষতা ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অভিন্ন কারিকুলাম ও মানদণ্ড নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে সনদের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে, সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং শিল্প খাতের শ্রমিক চাহিদা নিরূপণ ও দক্ষ শ্রমশক্তি গঠনে কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন সহজ হবে।
এছাড়া, এনএসডিএ-এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যসমূহ অনুমোদিত হয়, যার মধ্যে রয়েছে উদীয়মান সেক্টরে ‘স্কিলস গ্যাপ এনালাইসিস’, উন্নয়ন প্রকল্পকে কারিকুলাম ও কম্পিটেন্সি স্ট্যান্ডার্ডের আওতায় আনা, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামোকে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্কের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের জনবলকে ‘পুর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি’ দিয়ে জাতীয় সনদের আওতায় আনা।
সভায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের সিডিসি প্রদানের বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নৌপরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প, গৃহায়ন ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুণ, প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, এনএসডিএ-এর নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
