সমন্বয়ের অভাবে ঝুঁকিতে ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
শিল্পে ব্যবহৃত ট্রান্সফ্যাটি অ্যাসিড (ট্রান্সফ্যাট) সর্বোচ্চ ২ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার বিধিমালা কার্যকর থাকলেও বাস্তবায়নে বড় ধরনের ঘাটতি রয়ে গেছে। পরীক্ষাগার সক্ষমতা ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে এই বিধিমালার সুফল এখনো পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকেরা।
বৃহস্পতিবার (৫ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের (বিএফএসএ) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা উঠে আসে। বাংলাদেশ এনসিডি ফোরাম ও এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট যৌথভাবে এই সংলাপের আয়োজন করে।
আলোচনায় জানানো হয়, ২০২১ সালে গেজেট প্রকাশ এবং ২০২২ সালে কার্যকর হওয়া ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা বাস্তবায়নে এখনও ‘প্রয়োগগত ফাঁক’ রয়ে গেছে। আইন থাকলেও তা কার্যকর করার মতো প্রযুক্তিগত ও মানবসম্পদ সক্ষমতা পর্যাপ্ত নয়।
গোলটেবিলে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ১৩টি সরকারি ও বেসরকারি পরীক্ষাগারের মূল্যায়নে দেখা গেছে, অনেক পরীক্ষাগারে গ্যাস ক্রোমাটোগ্রাফির মতো আধুনিক যন্ত্র থাকলেও মানসম্মত রেফারেন্স উপকরণ, যাচাইকৃত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ও মান統 অপারেটিং পদ্ধতির (এসওপি) অভাব রয়েছে। ফলে পরীক্ষার ফল অনেক ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয়ে পড়ছে, যা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, আমদানিকৃত ভোজ্যতেলের একটি অংশে ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা ৪ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত পাওয়া যাচ্ছে, যা আইনগত সীমার দ্বিগুণ। পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় এসব পণ্য বাজারে প্রবেশ করছে। এতে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির পাশাপাশি আইন মানা দেশীয় উৎপাদকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বৈঠকের সূচনায় বিএফএসএর সদস্য (জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টি) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, “২ শতাংশ ট্রান্সফ্যাট বিধিমালা সঠিকভাবে প্রয়োগ করা গেলে বছরে আনুমানিক ১২ হাজার ৩০০ মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। তবে এর জন্য আইন ও পরীক্ষাগার সক্ষমতার মধ্যকার ব্যবধান দ্রুত দূর করতে হবে।”
বাংলাদেশ এনসিডি ফোরামের প্রকল্প ব্যবস্থাপক উম্মে ফারিহীন সুলতানা বলেন, নিয়মিত নজরদারি, তথ্যের স্বচ্ছতা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ছাড়া ট্রান্সফ্যাট নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
বৈঠকে জানানো হয়, দেশে হৃদ্রোগজনিত মৃত্যুর একটি অংশের পেছনে অতিরিক্ত ট্রান্সফ্যাট গ্রহণ দায়ী। সাম্প্রতিক পরীক্ষায় বাজারে থাকা ব্র্যান্ডেড সয়াবিন তেলের বড় অংশেই ডব্লিউএইচও নির্ধারিত নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বেশি ট্রান্সফ্যাট পাওয়া গেছে।
আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন বিএফএসএর সদস্য (খাদ্যশিল্প ও উৎপাদন) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ শোয়েব। প্যানেলে ছিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের কর্মকর্তা সামিনা ইসরাত। সঞ্চালনায় ছিলেন এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. শামীম হায়দার তালুকদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফএসএর চেয়ারম্যান জাকারিয়া বলেন, বিধিমালার সঙ্গে বাস্তবায়ন ব্যবস্থার সমন্বয় এখনও পিছিয়ে।
তিনি বলেন, “স্বাস্থ্য, বাণিজ্য ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের অভাবই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সমন্বিত নজরদারি ব্যবস্থা ছাড়া এই বিধিমালার কার্যকর প্রয়োগ সম্ভব নয়।”
