এপস্টেইন ফাইল: নতুন করে আলোচনায় ইসরায়েল-মোসাদ বিতর্ক
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০১ পিএম
জেফ্রি এপস্টেইন; এখন যেনো- হানি ট্রাপ, ক্ষমতা আর অদৃশ্য শক্তি কিংবা অন্ধকার জগতের ‘র সমর্থক শব্দ। এপস্টেইন একা নয়, শুধু একজন অপরাধী নয়, এটি এমন এক নাম—যার পেছনে লুকিয়ে ছিল ক্ষমতা, ভয় আর নীরবতা।
জেফ্রি এপস্টেইন—একজন ধনকুবের, কিন্তু তার সম্পদের উৎস আজও রহস্য। প্রশ্ন উঠেছে বারবার—কীভাবে সে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষদের এত কাছে পৌঁছাল? রাষ্ট্রপ্রধান, রাজপুত্র, বিলিয়নিয়ার—কারা ছিল তার অতিথি তালিকায়?
জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে রহস্য ও বিতর্ক, তার অন্যতম বড় অংশ হলো “হানি ট্রাপ” ও গোপন শক্তির অভিযোগ। অনেক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, ভুক্তভোগীর বক্তব্য এবং বিশ্লেষকদের ধারণায় উঠে আসে—এপস্টেইন কেবল একজন যৌন অপরাধীই নন, বরং তিনি ছিলেন এক প্রভাবশালী ব্ল্যাকমেইল নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দু। তবে এগুলো প্রমাণিত সত্য নয়, বরং গুরুতর অভিযোগ ও বিতর্কিত দাবি—এই বিষয়টি মনে রাখা জরুরি।
অভিযোগ অনুযায়ী, এপস্টেইন ধনকুবের ও ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের জন্য বিলাসবহুল দ্বীপ, প্রাসাদ ও ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণের ব্যবস্থা করতেন। সেখানে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের ব্যবহার করে হানি ট্রাপ ফাঁদ পাতা হতো—যার মাধ্যমে প্রভাবশালীদের দুর্বলতা ধরে রাখা যেত। কিছু গবেষক ও সাংবাদিকের দাবি, এসব ঘটনার ভিডিও বা নথি সংগ্রহ করে ভবিষ্যতে চাপ প্রয়োগের সুযোগ তৈরি করা হতো। যদিও এসব অভিযোগের বড় অংশ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এপস্টেইনের পেছনে গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ জড়িত—এমন দাবি রয়েছে। দ্যা টাইমস অব ইসরায়েল পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী সাবেক ফক্স নিউজ উপস্থাপক টাকার কার্লসন দাবি করেছেন, জেফ্রি এপস্টেইন মোসাদের হয়ে কাজ করছিল।
এছাড়াও এপস্টেইনের অস্বাভাবিক প্রভাব, বারবার আইনি ছাড় পাওয়া এবং প্রভাবশালীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ এসব সন্দেহ উসকে দেয়। তবে ইসরায়েল বা মোসাদের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযোগ বারবার অস্বীকার করা হয়েছে, এবং এখন পর্যন্ত কোনো সরাসরি প্রামাণ্য দলিল জনসমক্ষে আসেনি।
২০১৯ সালে কারাগারে এপস্টেইনের মৃত্যুর পর এই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়। তার সঙ্গে জড়িত অনেক প্রশ্নের উত্তর অজানাই থেকে যায়—কে তাকে রক্ষা করেছিল, কারা সুবিধা পেয়েছিল, আর কারা দায় এড়িয়ে গেছে? এপস্টেইন কেলেঙ্কারি তাই আজও কেবল একটি অপরাধকাহিনি নয়; এটি ক্ষমতা, প্রভাব ও গোপন রাজনীতির অন্ধকার দিক নিয়ে চলমান এক বিতর্ক, যেখানে সত্য ও অভিযোগের সীমারেখা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
