মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে চরম ঝুঁকিতে ভারতের অর্থনীতি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে ভারতের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপ পড়েছে। দেশটির রূপি মার্কিন ডলারের বিপরীতে রেকর্ড নিম্নে নেমে এসেছে। গত এক বছরে রূপির মূল্য প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া বাজারে হস্তক্ষেপ করলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এ চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে রূপি আরো দুর্বল হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মুদ্রার দুর্বলতা ভোক্তা মূল্যস্ফীতি, কর্পোরেট লাভ, সরকারের বাজেট ঘাটতি এবং শেয়ারবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে। ভারতের প্রধান শেয়ারবাজার সূচক এই বছরের শুরু থেকে প্রায় ১২ শতাংশ কমেছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ ফেরত নেওয়ায় দেশটিতে সম্পদের মান হ্রাসের প্রভাব দেখা দিয়েছে। এ কারণে ভোগ্যপণ্যের চাহিদা কমাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা সরাসরি ভারতের জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহকে প্রভাবিত করছে। ইরান যুদ্ধের কারণে ভারতের লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এতে অনেক রেস্তোরাঁ ও হোটেল আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ অবস্থার কারণে দেশটিতে স্ট্যাগফ্লেশনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে, অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেলেও অর্থনৈতিক বৃদ্ধি স্থবির হয়ে যেতে পারে।
আরো পড়ুন : রাশিয়া থেকে ভারতের তেল আমদানি বেড়েছে ৯০ শতাংশ
ভারতের আর্থিক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জ্বালানি ও খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত হলে দেশটির জিডিপি বৃদ্ধির হার কমতে পারে ১ শতাংশ পর্যন্ত। মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রাপ্ত জ্বালানি ও সার আমদানি স্থগিত হলে, কৃষি খাতের উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে আগামীর বপন মৌসুম এবং এল নিনো আবহাওয়ার প্রভাব বিবেচনায় এ ঝুঁকি বাড়ছে।
সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় ৬.২ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তহবিল প্রস্তাব করেছে এবং খাদ্য ও সার ভর্তুকিতে অতিরিক্ত খরচের অনুমোদন চাইছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই তহবিলের পরিমাণ এখনও সংকট মোকাবিলার জন্য সীমিত।
ব্যাংক অব ইন্ডিয়া সম্ভবত আগামী সপ্তাহে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। কেয়ার এজ রেটিং জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের “ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ” কৌশল রূপির অবস্থা এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেবে।
বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, দুর্বল রূপি ভারতের রপ্তানি প্রতিযোগিতাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করতে পারে। এছাড়া, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার পর্যাপ্ত সংরক্ষণ এটিকে সংকট মোকাবিলায় কিছুটা সুবিধা দিচ্ছে।
ভারতের প্রাক্তন প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রমণিয়ান বলেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকটের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদি দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি বলছেন, ভারতকে জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি, উৎস বৈচিত্র্য এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত স্থানান্তরের পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।
