যে কারণে এবার ভারতকে হুমকি দিল যুক্তরাষ্ট্র
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২৪, ০২:২৩ পিএম
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাশিয়া সফর ঘিরে আগেই কড়া বার্তা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এবার সরাসরি নয়াদিল্লিকে ‘হুমকি’ দিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি বলেছেন, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্ব গভীর। কিন্তু এতটাও গভীর নয় যে ওয়াশিংটনকে ‘অগ্রাহ্য’ করতে পারে নয়াদিল্লি।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সম্প্রতি প্রথমবার রাশিয়া সফরে যান নরেন্দ্র মোদি। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বুকে জড়িয়ে ধরেন। কিন্তু সেই দৃশ্য দেখে ক্ষুব্ধ শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারা। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমন্ত্রণে চলছে ন্যাটো সম্মেলন।ঠিক সেই সময়েই মস্কো সফরে গিয়ে রাশিয়াকে ভারতের সব সময়ের বন্ধু বলে অভিহিত করেন মোদি। তাতেই ক্ষিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র।
অবশ্য, এর আগে ৮জুলায় মোদীর রাশিয়া সফর নিয়ে প্রশ্ন করা হয় আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারকে। সেই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘‘রাশিয়ায় গিয়ে মোদী কী বক্তব্য রাখছেন, সে দিকে আমরা নজর রেখেছি। তবে, ভারতের সঙ্গে রাশিয়ার বন্ধুত্বের বিষয়ে ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই দিল্লির কাছে উদ্বেগ জানিয়েছে।এখানেই থেমে থাকেননি ম্যাথিউ। তিনি এ-ও বলেন, ‘‘ভারত হোক বা যে কোনও দেশ, যারা রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখছে, তারা অবশ্যই মস্কোকে রাষ্ট্রপুঞ্জের নির্দেশিকা মেনে চলার কথা মনে করিয়ে দেবে।’’
এদিকে, ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোদির রাশিয়া সফর বাইডেন প্রশাসনের পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন। বিশেষ করে এমন সময়ে মোদি রাশিয়ায় গেছেন, যা মার্কিন রাজনীতিক মহল মোটেই ভালোভাবে নিচ্ছেন না। কারণ ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে ন্যাটো সম্মেলনে। আর সেই সময়েই যুক্তরাষ্ট্রের ‘বন্ধু’ মোদি জড়িয়ে ধরেছেন ইউক্রেনে অভিযান শুরু করা পুতিনকে।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, চলতি মাসের শুরু দিকে ভারতের পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলেন মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ডেপুটি সচিব কার্ট ক্যাম্পবেল। ন্যাটো সম্মেলনের মধ্যে মোদি রাশিয়ায় যাবেন না, দুই পক্ষের আলোচনার পর এমনটাই আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
কিন্তু, পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মিত্র মস্কোর সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার সূক্ষ্ম পথেই হাঁটছে নয়াদিল্লি। ভারতকে ছাড় মূল্যে তেল এবং অস্ত্র সরবরাহ করা গুরুত্বপূর্ণ দেশ রাশিয়া। তবে ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং চীনের সঙ্গে অতি ঘনিষ্ঠতার ফলে সময়ের পরীক্ষিত এই মিত্রের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান-সহ বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলির তিরস্কার শুনতে হয়েছে রাশিয়াকে। এমনকি, বহু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। তবে আমেরিকার চোখরাঙানি থাকার পরেও রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব নষ্ট করতে চায়নি ভারত।
এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে বন্ধুত্ব গভীর হলে ভারতকে ‘ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হবে’ বলে বার্তা দিয়েছেন মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভ্যান। সবমিলিয়ে, মোদির এই রাশিয়া সফরের জেরে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
