×

আন্তর্জাতিক

মাইকেল কুগেলম্যান

নির্বাচনে খুলতে পারে বাংলাদেশ-ভারত সমঝোতার পথ

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৮ পিএম

নির্বাচনে খুলতে পারে বাংলাদেশ-ভারত সমঝোতার পথ

মাইকেল কুগেলম্যান। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চলমান তীব্র কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও আসন্ন সাধারণ নির্বাচন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি নতুন ‘সমঝোতার সুযোগ’ তৈরি করতে পারে বলে মত দিয়েছেন দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক বিশ্লেষক মাইকেল কুগেলম্যান।

অনলাইন সাময়িকী ফরেন পলিসি-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো কুগেলম্যান উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিনের তিক্ততা পেছনে ফেলে ভারত এখন বিএনপি-নেতৃত্বাধীন সম্ভাব্য সরকারের প্রতি তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক বার্তা দিতে শুরু করেছে।

তার বিশ্লেষণে বলা হয়, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির শোকবার্তা পাঠানো এবং ঢাকায় জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের উপস্থিতি দিল্লির কৌশলগত অবস্থান বদলের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত। কুগেলম্যানের মতে, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক জোট ভেঙে বেরিয়ে আসায় বিএনপি এখন ভারতের কাছে আগের চেয়ে বেশি গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠেছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতি শুরু হয়, যা ক্রমান্বয়ে কূটনৈতিক অঙ্গন ছাড়িয়ে ক্রীড়াক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করেছে এবং বাংলাদেশ জাতীয় দল ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

কুগেলম্যান তার নিবন্ধে তুলে ধরেন, একদিকে বাংলাদেশের একটি বড় অংশ মনে করে ভারত দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেছে। অন্যদিকে ভারতের ধারণা, শেখ হাসিনাবিহীন বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের উত্থানের ঝুঁকি বেড়েছে। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া এবং তাকে হস্তান্তরে অস্বীকৃতি জানানো এই প্রেক্ষাপটে ঢাকার অবস্থানকে আরো কঠোর করেছে, বিশেষ করে যখন বাংলাদেশি আদালত তার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে।

দুই দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাস্তবতাও সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে বলে মনে করেন কুগেলম্যান। বাংলাদেশে প্রভাবশালী ইসলামপন্থী দলগুলো ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিরোধিতা করে, যা নতুন সরকারের রাজনৈতিক পরিসর সীমিত করতে পারে।

অন্যদিকে, ভারতে সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে উদ্বেগ এবং বাংলাদেশে কয়েকজন মানবাধিকার কর্মীর ওপর হামলার ঘটনা দিল্লির অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে। তবে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের জাতীয় ঐক্যের আহ্বান এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় উদ্যোগ নেওয়ার ইঙ্গিত ভারতকে কিছুটা আশাবাদী করছে। একই সঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও স্পষ্ট করেছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে ‘সমঅধিকারভিত্তিক’।

নিবন্ধের উপসংহারে কুগেলম্যান উল্লেখ করেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাংলাদেশ ও ভারতের জন্য সম্পর্কের বরফ গলানোর একটি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সেই সুযোগ বাস্তবে রূপ নিতে হলে উভয় পক্ষকেই রাজনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে আপসের পথে হাঁটতে হবে।

ভারত ইতোমধ্যে জানিয়েছে, তারা বাংলাদেশে নির্বাচিত যেকোনো সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুনর্গঠন এখন অনেকটাই নির্ভর করছে দিল্লি ও ঢাকার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সাহসী সিদ্ধান্ত ও বাস্তবমুখী কূটনীতির ওপর। দুই দেশের সাধারণ মানুষের আবেগ ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয় ঘটিয়ে একটি স্থিতিশীল, মর্যাদাশীল সম্পর্ক গড়ে তোলাই এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ।

সূত্র: ফরেন পলিসি


সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আরও কয়েকদিন: আবহাওয়া অধিদপ্তর

শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আরও কয়েকদিন: আবহাওয়া অধিদপ্তর

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৪ অধ্যাদেশ অনুমোদন

উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ৪ অধ্যাদেশ অনুমোদন

সাগরে নিম্নচাপ, যে সতর্কবার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস

সাগরে নিম্নচাপ, যে সতর্কবার্তা দিলো আবহাওয়া অফিস

দুর্নীতি বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি

দুর্নীতি বন্ধে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App