রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করলো মিয়ানমার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মিয়ানমার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে (আইসিজে) আত্মপক্ষ সমর্থন শুরু করেছে। দেশটি দাবি করেছে, অভিযোগটি প্রমাণের জন্য গাম্বিয়া পর্যাপ্ত তথ্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেদারল্যান্ডসের হেগে আইসিজেতে মিয়ানমারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন সরকারি প্রতিনিধি কো কো হ্লাইং। তিনি বলেন, গণহত্যার অভিযোগ ভিত্তিহীন ও প্রমাণহীন।
এর আগে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাওদা জালো আদালতে বলেছিলেন, মিয়ানমার রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য গণহত্যামূলক নীতি অনুসরণ করেছে।
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর অভিযানে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নিহত হন এবং সাত লাখের বেশি মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। পরের বছর জাতিসংঘের তদন্ত প্রতিবেদনে রাখাইন রাজ্যে গণহত্যা এবং অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মিয়ানমারের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করার সুপারিশ করা হয়।
কো কো হ্লাইং আদালতে বলেন, উত্তর রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড মোকাবিলায় আমাদের সামরিক পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। ওই সময়ের ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ ছিল সন্ত্রাসবিরোধী ও বিদ্রোহ দমনমূলক অভিযান। তিনি দাবি করেন, গাম্বিয়ার অভিযোগ মিয়ানমারের প্রকৃত প্রয়াসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আরো পড়ুন : ভেনেজুয়েলাকে নেতৃত্ব দেওয়ার অঙ্গীকার মাচাদোর
গাম্বিয়ার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আইনজীবী ফিলিপ স্যান্ডস। তিনি বলেন, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের হত্যা এবং গ্রাম ধ্বংসকে কোনোভাবেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সঙ্গে যুক্ত করা যায় না। তিনি যুক্তি দেন, সব প্রমাণ একত্র করলে দেখা যায়, মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কর্মকাণ্ডে গণহত্যার উদ্দেশ্য স্পষ্ট।
মামলায় গাম্বিয়ার পাশে ৫৭ সদস্যবিশিষ্ট মুসলিম দেশগুলোর জোট (ওআইসি) সমর্থন দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের কক্সবাজারে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী বসবাস করছেন, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোর মধ্যে একটি।
মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাখাইন রাজ্যের বাসিন্দাদের প্রত্যাবাসনে দেশটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কোভিড-১৯সহ নানা কারণে প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হয়েছে। কো কো হ্লাইং আদালতে সতর্ক করেন, গণহত্যার রায় হলে তা মিয়ানমার ও এর জনগণের ওপর অমোচনীয় কলঙ্ক হয়ে থাকবে এবং দেশের ভবিষ্যৎ ও আন্তর্জাতিক সুনামের জন্য এ রায় গুরুত্বপূর্ণ।
