পাঁচ’শ শিশুকে যৌন হেনস্তায় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫৯৬ অভিযোগ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
ছবি: অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যম ও অনলাইন গেমের আড়ালে শিশুদের শিকারে পরিণত করার দায়ে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ভয়াবহ সব অভিযোগ সামনে এনেছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড পুলিশ।
জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সী ওই অভিযুক্ত ব্যক্তি শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই নয়, বরং আরও ১৫টি দেশের প্রায় ৪৫৯ জন শিশুকে যৌন নির্যাতনের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কারান্তরীণ থাকা এই ব্যক্তির কাছ থেকে জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসে শিশু নির্যাতনের প্রায় ২৩ হাজারেরও বেশি স্থিরচিত্র ও ভিডিও চিত্র পাওয়া গিয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিশুদের ওপর এমন পাশবিক অপরাধ চালানোর দায়ে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট ৫৯৬টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
কুইন্সল্যান্ড পুলিশের ডিটেকটিভ অ্যাক্টিং চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ডেনজিল ক্লার্ক বলেন, ‘ছবি ও ভিডিওর ‘পরিমাণ’ এত বেশি ছিল যে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় ‘সময়, দক্ষতা ও প্রতিশ্রুতি’ প্রয়োজন হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ৩৬০ জন ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘ভুক্তভোগীদের মধ্যে ২০০ জনের বেশি অস্ট্রেলিয়ায় এবং বাকিরা প্রধানত ইংরেজিভাষী দেশগুলোতে। তাদের অধিকাংশই সাত থেকে ১৫ বছর বয়সী ছেলে।’
ডেনজিল ক্লার্ক বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ভুক্তভোগীদের শনাক্তকরণ ও তাদের ‘উপযুক্ত সহায়তা’ নিশ্চিত করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘জনপ্রিয় অ্যাপ, গেম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে শিশুদের প্রলুব্ধ করা, বাধ্য করা বা হুমকি দিয়ে নিজেদের যৌন ছবি তুলতে ও পাঠাতে বাধ্য করার ঘটনা ‘ক্রমবর্ধমানভাবে’ বাড়ছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘এতে একটি শিশুর যে মানসিক আঘাত হয়, তা গুরুতর।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি ব্যবহৃত সাইটগুলোর নাম বলতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করলেও বলেন, ‘সেগুলো ‘খুবই জনপ্রিয়’। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সব অপরাধই অনলাইনে সংঘটিত হয়েছে এবং অন্য সন্দেহভাজনদের বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছে।’
পুলিশ জানায়, ‘অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশুদের লক্ষ্যবস্তু করেন। তিনি একাধিক অনলাইন প্রোফাইল তৈরি করে পুরুষ ও নারী- উভয় সেজে পরিচয় দিতেন।’
পুলিশের অভিযোগ করে বলেন, ‘তিনি যোগাযোগগুলো রেকর্ড করতেন এবং ‘প্রলুব্ধকরণ ও জবরদস্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে যৌনভাবে স্পষ্ট উপাদান পাঠাতে বাধ্য করতেন, যা তিনি ‘নাম দেওয়া ফোল্ডারে’ অত্যন্ত ‘সতর্কতার সঙ্গে’ সংরক্ষণ করতেন।’
তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—কারেজ সার্ভিসের মাধ্যমে শিশু নির্যাতনের উপাদান উৎপাদনের ২৪৪টি অভিযোগ, ১৬ বছরের কম বয়সীদের প্রলুব্ধ করতে কারেজ সার্ভিস ব্যবহারের ১৬৩টি অভিযোগ এবং কারেজ সার্ভিস ব্যবহার করে শিশুর সঙ্গে যৌন কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার ৮৭টি অভিযোগ। ওই ব্যক্তির বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে।
