মোজতবা খামেনির জীবন-স্বাস্থ্যসংক্রান্ত যে তথ্য উঠে এলো আলোচনায়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা প্রয়াত আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন তাঁর ৫৬ বছর বয়সী ছেলে মোজতবা খামেনি। তবে এই সময় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কিছু তথ্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
উইকিলিকস প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তা অনুযায়ী, মোজতবা একসময় গুরুতর যৌন অক্ষমতায় ভুগছিলেন এবং চিকিৎসার জন্য একাধিকবার যুক্তরাজ্যে যান। ২০০০ সালের কিছু নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি লন্ডনের ওয়েলিংটন হসপিটালে অন্তত চারবার চিকিৎসা নেন। স্ত্রীর গর্ভধারণে জটিলতা দেখা দেওয়ায় একবার তিনি টানা দুই মাস ক্লিনিকে অবস্থান করেছিলেন। পরে তাঁর স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা হন বলে ওই তারবার্তায় উল্লেখ করা হয়।
একই নথিতে দাবি করা হয়, সাবেক মজলিস স্পিকার হাদ্দাদ আদেলের মেয়েকে বিয়ের আগে মোজতবা ইসলামি আইনে দুটি অস্থায়ী বিয়ে করেছিলেন। পরে তিনি স্থায়ীভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। এদিকে গত শনিবার তেহরানে ইসরায়েলি হামলায় আলী খামেনির পাশাপাশি মোজতবার স্ত্রী ও এক পুত্র নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।
আরো পড়ুন: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এপস্টেইন ফাইলের নতুন তথ্য
দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানায়, ১৯৬৯ সালে জন্ম নেওয়া মোজতবা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের সময় শিশু ছিলেন। ১৯৮৭ সালে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে তিনি Iইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরে যোগ দেন এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন। পরে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ করে তিনি দেশের ধর্মীয় ও নিরাপত্তা কাঠামোর ভেতরে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তোলেন এবং বাবার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় দীর্ঘদিন পর্দার আড়ালে কাজ করেন।
২০০৫ ও ২০০৯ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রক্ষণশীল প্রার্থীদের পক্ষে কারচুপি ও হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০০৯ সালের বিক্ষোভ দমনেও তাঁর ভূমিকা ছিল বলে সংস্কারপন্থীরা দাবি করেন। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
বর্তমানে ইরানের ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের ওপর কট্টরপন্থীদের চাপ রয়েছে, যাতে মোজতবাকেই পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়। তবে বিপ্লবের মাধ্যমে রাজতন্ত্র উৎখাত করা ইরানে খামেনির ছেলের ক্ষমতায় আসা নতুন করে ‘পারিবারিক শাসন’ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
আরো পড়ুন: মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা মন্ত্রী ক্রিস্টি নোয়েম বরখাস্ত
এদিকে ইসরায়েল কাটজ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের সন্ত্রাসী শাসনের নেতৃত্বে যাকে আনা হবে, তাকেই লক্ষ্যবস্তু করা হবে। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সাম্প্রতিক হামলায় সম্ভাব্য অনেক উত্তরসূরি নিহত হওয়ায় ইরানের নেতৃত্বে এমন কেউ আসতে পারেন, যাকে আগে ভাবা হয়নি। তবে তেহরানের কট্টরপন্থীরা মোজতবার মাধ্যমেই খামেনির আদর্শ ধরে রাখতে চাইছে। আগামী সপ্তাহেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
