বাজারে আসছে ১৭ কোটি ব্যারেল ইরানি তেল, স্বস্তির ইঙ্গিত জ্বালানিতে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মার্চ ২০২৬, ০৬:৫২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লেও এর মধ্যেই বড় এক সরবরাহ আসতে যাচ্ছে। সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় থাকা বিপুল পরিমাণ ইরানি অপরিশোধিত তেল (ক্রুড) বাজারে ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জাহাজে থাকা প্রায় ১৭ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে আসতে পারে।
শনিবার (২১ মার্চ) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান কেপলারের সিনিয়র ম্যানেজার ইমানুয়েল বেলোস্ট্রিনো জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে চীনের জলসীমা পর্যন্ত বিভিন্ন জাহাজে বর্তমানে প্রায় ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল মজুদ রয়েছে।
অন্যদিকে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এনার্জি এসপেক্ট গত ১৯ মার্চের এক মূল্যায়নে জানায়, সমুদ্রে ভাসমান ইরানি তেলের পরিমাণ ১৩০ থেকে ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল, যা বর্তমান উৎপাদন ঘাটতির তুলনায় ১৪ দিনেরও কম সরবরাহের সমান।
এশিয়ার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশই মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল। তবে চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এ অঞ্চলের তেল শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমাতে এবং রপ্তানি সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে জ্বালানি বাজারে চাপ আরো বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শোধনাগারগুলো উৎপাদন কমিয়ে দিচ্ছে, যা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলছের
তেল কিনতে আগ্রহী দেশগুলো
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে চীনের অবস্থান সুদৃঢ় হয়। গত বছর দেশটির স্বাধীন শোধনাগারগুলো প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩ দশমিক ৮ লাখ ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। চীনের পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইতালি, গ্রিস, তাইওয়ান ও তুরস্ক আগে বড় আমদানিকারক ছিল। বর্তমানে ভারতের শোধনাগারগুলোও ইরানি তেল কেনার আগ্রহ দেখাচ্ছে, তবে এ বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা ও যুক্তরাষ্ট্রের পেমেন্ট শর্তাবলির স্পষ্টতার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।
আমদানিতে জটিলতা
ইরানি তেল আমদানির ক্ষেত্রে এখনো কিছু বাধা রয়ে গেছে। বিশেষ করে অর্থ পরিশোধের পদ্ধতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রে মজুদ থাকা তেলের একটি বড় অংশ পুরোনো ‘শ্যাডো ফ্লিট’ জাহাজে বহন করা হচ্ছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া ২০১৮ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে পূর্ববর্তী ক্রেতাদের সঙ্গে চুক্তিগুলোতেও জটিলতা তৈরি হয়েছে।
