দ্বিতীয় মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। শুক্রবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায়, মধ্য ইরানে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিমানটি ধ্বংস করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এ খবর জানিয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দফতরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, যুদ্ধবিমানটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং এর পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুব কম। আইআরজিসি দাবি করেছে, ভূপাতিত বিমানটি ইংল্যান্ডের রয়্যাল এয়ারফোর্স লেকেনহিথ ঘাঁটিতে মোতায়েন থাকা একটি মার্কিন স্কোয়াড্রনের অংশ।
এর আগে গত মার্চ মাসের শেষে ইরান একটি এফ-৩৫ ভূপাতিতের দাবি করলেও ওয়াশিংটন তা প্রত্যাখ্যান করেছিল। সে সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, একটি যুদ্ধকালীন মিশন শেষে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিমানটি জরুরি অবতরণ করেছে এবং পাইলট সুস্থ আছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে লকহিড মার্টিনের তৈরি এই এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সবশেষ এই ঘটনা নিয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের সামরিক অভিযান জোরদার করেছে। গত বুধবার রাতে এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহ ইরানের ওপর ‘চরম কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘এরপর সেতু, তারপর বিদ্যুৎকেন্দ্র।’ তিনি আরও বলেন, ইরানের নেতৃত্বের জানা উচিত তাদের কী করা প্রয়োজন এবং তা দ্রুত করতে হবে।
যৌথ বাহিনীর এই বোমাবর্ষণে ইরানের হাজার হাজার ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতালের মতো বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যুদ্ধের শুরুতে সামরিক লক্ষ্যবস্তু থাকলেও এখন বেসামরিক এলাকাগুলোকে বেশি নিশানা করা হচ্ছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবারের হামলায় তেহরানের ১০০ বছরের পুরোনো পাস্তুর ইনস্টিটিউট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান টেড্রোস আডানম গেব্রিয়াসিস এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এখন আর চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অবস্থায় নেই। গত ১ মার্চের পর থেকে ইরানে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ২০টিরও বেশি হামলার তথ্য যাচাই করেছে সংস্থাটি।
শুক্রবার সকালে তেহরানের নিকটবর্তী কারাজ শহরের একটি সেতুতে দুই দফায় হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম দফায় বেসামরিক মানুষ হতাহত হন এবং দ্বিতীয় দফা হামলাটি চালানো হয় যখন উদ্ধারকারী দল সেখানে কাজ করছিল।
এরই মধ্যে ইরান জানিয়েছে, তাদের শিল্প কারখানায় হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তারা সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এর মধ্যে আবুধাবির আমেরিকান স্টিল ইন্ডাস্ট্রিজ, বাহরাইনের আমেরিকান অ্যালুমিনিয়াম ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ইসরায়েলের রাফায়েল অস্ত্র কারখানা রয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
