মুখোমুখি বসছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামাবাদজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আজ শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা। বর্তমানে বিশ্ব গণমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে এই সংলাপ। উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠককে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
ঐতিহাসিক এই আলোচনাকে ঘিরে পুরো ইসলামাবাদ শহরজুড়ে এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে শহরটিতে দুই দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে পাকিস্তান সরকার।
এ ছাড়া মোতায়েন করা হয়েছে হাজার হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ।
তার সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি মোহাম্মদ বাকের জোলকাদর, ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী আকবর আহমাদিয়ান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোল নাসের হেম্মাতিসহ প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা।
শুক্রবার রাতে ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ‘আমাদের সদিচ্ছা আছে, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আমাদের কোনো বিশ্বাস নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি একটি প্রকৃত ও সম্মানজনক চুক্তির জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে ইরানও তাতে ইতিবাচক সাড়া দেবে। তবে দুর্ভাগ্যবশত, আমেরিকানদের সঙ্গে আমাদের আলোচনার অতীত অভিজ্ঞতা সবসময় ব্যর্থতা এবং প্রতিশ্রুতির লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে এই আলোচনায় তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। ভার্জিনিয়ার শার্লটসভিলের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, হরমুজ প্রণালি খুব শিগগিরই জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে বলে তিনি আশা করেন। তবে এই আলোচনা আগামী সপ্তাহগুলোতেও চলবে কি না, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত কোনো ইঙ্গিত দেননি ট্রাম্প।
ওয়াশিংটন ডিসিতে এয়ারফোর্স টুতে ওঠার সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তেহরানের সঙ্গে এই বৈঠক ‘ইতিবাচক’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ইরান যদি আমাদের সঙ্গে প্রতারণা বা কূটচাল চালতে চায়, তবে তারা দেখবে যে এই আলোচক দলটি তাদের প্রতি মোটেও সহানুভূতিশীল হবে না।’
এর আগে গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল দুই দেশ। তবে আলোচনার টেবিলে বসার আগে বেশ কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও ইসরাইল ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ দাবি করেছেন যে, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পাকিস্তানের এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় শান্তি আলোচনার ফলপ্রসূতা নিয়ে নতুন করে সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে ইরানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছেছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে তারা ইসলামাবাদে পৌঁছান।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও একটি উচ্চপর্যায়ের দল আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
