×

আন্তর্জাতিক

জিহাদি ড্রাগ ‘ক্যাপ্টাগন’ উদ্ধারের ঘটনায় ভারতে তোলপাড়

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ১১:৪০ পিএম

জিহাদি ড্রাগ ‘ক্যাপ্টাগন’ উদ্ধারের ঘটনায় ভারতে তোলপাড়

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি)-এর বিশেষ অভিযানে প্রথমবারের মতো ‘জিহাদি ড্রাগ’ বা ‘গরিবের কোকেন’ হিসেবে পরিচিত মাদকের একটি এক চালানে জব্দ করা হয়েছে।

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ জানিয়েছেন, ‘মাদক নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন রেজপিল’-এর আওতায় গুজরাটের মুন্দ্রা বন্দর এবং দিল্লির নেব সরাই এলাকা থেকে ১৮২ কোটি টাকা মূল্যের এই মাদক জব্দ করা হয়েছে।’

রোববার (১৭ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে এ খবর জানিয়েছে।

অমিত শাহ জানান, ‘জব্দকৃত এই মাদকের চালানটি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে পাচারের উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। এই ঘটনায় একজন সিরীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লিখেন, ‘মোদি সরকার মাদক-মুক্ত ভারত গড়তে বদ্ধপরিকর। আমাদের সংস্থাগুলো প্রথমবারের মতো তথাকথিত ‘জিহাদি ড্রাগ’ ক্যাপ্টাগন জব্দ করতে সক্ষম হয়েছে।’

আন্তর্জাতিক মহলে ‘জিহাদি ড্রাগ’ হিসেবে পরিচিত ‘ক্যাপ্টাগন’ মূলত একটি তীব্র আসক্তিনির্ভর অ্যাম্পিটামিন-জাতীয় উত্তেজক মাদক। সিরীয় গৃহযুদ্ধের সময় আইএসের মতো উগ্রপন্থী সংগঠনের সদস্যরা দীর্ঘ সময় নির্ঘুম থাকতে, ক্লান্তি ও ভয় ভুলে যুদ্ধক্ষেত্রে টিকে থাকার জন্য এটি ব্যবহার করত, যার ফলে এটি এই কুখ্যাত নাম পায়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বহুল ব্যবহৃত এই মাদকটি তৈরি করতে খরচ অনেক কম পড়ে বলে একে ‘গরিবের কোকেন’ নামেও ডাকা হয়।

গোয়েন্দাদের ধারণা, ‘এই চালানটি উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছিলো, যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের আবহে সেখানে লড়াইরত যোদ্ধাদের ব্যবহারের জন্য নেওয়া হতে পারতো।’

ক্যাপ্টাগন মূলত ১৯৬০-এর দশকে মনোযোগের অভাব (অ্যাটেনশন ডিসঅর্ডার) ও নার্কোলেপ্সির চিকিৎসার জন্য ‘ফেনিথাইলাইন’ নামে তৈরি করা হয়েছিল। তবে ভয়াবহ আসক্তির কারণে ৮০-এর দশকে অনেক দেশ এটি নিষিদ্ধ করে। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘ একে সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্স কনভেনশনে এর ব্যবহার সীমিত করে দেয়।

বর্তমানে কালোবাজারে যে ক্যাপ্টাগন পাওয়া যায়, তা আদি রূপের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। ল্যাবরেটরিতে তৈরি এই মাদকে অ্যাম্ফিটামিন, ক্যাফেইন এবং মেথামফেটামিনসহ নানা সিন্থেটিক রাসায়নিকের মিশ্রণ থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘এই মাদকের সামান্য মাত্রাও অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে মানুষের মধ্যে চরম আগ্রাসন, সহিংস আচরণ এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। দীর্ঘমেয়াদে এটি মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করে।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

‘আমলাদের অপকর্মে ফ্যামিলি কার্ড থেকে গরীবরা বঞ্চিত’

‘আমলাদের অপকর্মে ফ্যামিলি কার্ড থেকে গরীবরা বঞ্চিত’

জিহাদি ড্রাগ ‘ক্যাপ্টাগন’ উদ্ধারের ঘটনায় ভারতে তোলপাড়

জিহাদি ড্রাগ ‘ক্যাপ্টাগন’ উদ্ধারের ঘটনায় ভারতে তোলপাড়

বৈশ্বিক উষ্ণতা কেড়ে নিচ্ছে মিঠাপানির অক্সিজেন

বৈশ্বিক উষ্ণতা কেড়ে নিচ্ছে মিঠাপানির অক্সিজেন

শহীদ মিনারে কারিনার তৃতীয় জানাজায় মানুষের ঢল

শহীদ মিনারে কারিনার তৃতীয় জানাজায় মানুষের ঢল

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App