বেনাপোল বলফিল্ড মাঠকে ঈদগাহে রূপান্তরের উদ্যোগ স্থগিতের দাবি
শেখ কাজিম উদ্দিন, বেনাপোল (যশোর) থেকে
প্রকাশ: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
ছবি: কাগজ প্রতিবেদক
দেশের সর্বববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলের বলফিল্ড মাঠকে ঈদগাহে রূপান্তরের উদ্যোগ স্থগিতের দাবি জানিয়েছে এলাবাসী।
আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপি পার্টি অফিসে আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্য তারা এ দাবি জানান।
অভিযোগ উঠেছে, বেনাপোলে উঠে আসা কিছু বহিরাগত কুচক্রীমহল এলাকার ঐতিহ্যবাহী এই বলফিল্ড মাঠটি কুক্ষিগত করতে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, পৌর প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে মাঠটিকে ঈদগাহ মাঠে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যা বেনাপোলবাসীর জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে দফায় দফায় বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতিসহ ইউএনও ও এসিল্যান্ড বরাবর স্মারকলিপি প্রদান, যোগাযোগ রক্ষা ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। স্মারকলিপিতে বলফিল্ড মাঠকে ঈদগাহে রূপান্তরের উদ্যোগ বন্ধ ও মাঠটি খেলাধুলার জন্য সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে।
এখান থেকে সরকার প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করলেও বেনাপোলবাসীর মৌলিক চাহিদা পূরণে এখানে গড়ে ওঠেনি একটি আধুনিকমানের হাসপাতাল, শিক্ষার জন্য মানসম্মত শিক্ষাঙ্গন কিংবা বিনোদনের জন্য মনোরম পরিবেশের কোনো পাবলিক কমপ্লেক্স বা পার্ক। তবে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র উন্মুক্ত বলফিল্ড মাঠটি প্রায় ১০০ বছর ধরে এলাকার শিক্ষার্থী, শিশু-কিশোর ও যুবসমাজের খেলাধুলা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক চর্চার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি শুধু বিদ্যালয়কেন্দ্রিক কার্যক্রম নয়, বরং এলাকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডেরও গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
জানা যায়, বাংলার চিরচেনা জারি-সারি-পালাগান, যাত্রাপালা ও নাটক মঞ্চস্থ, বৈশাখী মেলা উদযাপন, সার্কাস খেলা, একুশে ফেব্রুয়ারির শোক দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবস উদযাপন, বিরাট ওয়াজ মাহফিল, ধর্মীয় সভা, জানাজা পড়ানো-সবই হয়ে থাকে এই মাঠে।
বেনাপোলের বিএনপি পার্টি অফিসে বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীবৃন্দের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন উক্ত বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ও স্থানীয় সামাজিক, ব্যবসায়ীক এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মোস্তাফিজ-জোহা সেলিম বলেন-সম্প্রতি নির্ভরযোগ্য সূত্রে তারা জেনেছেন যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঠটিকে ঈদগাহে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন। এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এলাকার হাজারো শিক্ষার্থী ও তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ মারাত্মকভাবে সীমিত হয়ে পড়বে। এতে তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়কেন্দ্রিক ক্রীড়া কার্যক্রম ও সামাজিক পরিবেশও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেন।
