ঈদকে সামনে রেখে হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে
মসিউর ফিরোজ, সাতক্ষীরা থেকে
প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সমানে রেখে সাতক্ষীরা বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ঈদকে সামনে রেখে ঈদ সালামির নামে সরকারি কর্মকর্তাদের গিয়ে বিরক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। ঈদ সালামির নামে সাংবাদিক পরিচয় দানকারীদের এমন কর্মকান্ডে বিব্রত সাতক্ষীরা মূলধারার জাতীয় গণমাধ্যমে কাজ করা সাংবাদিকবৃন্দ। বিভিন্ন কৌশলে ঈদ সালামির নামে সরকারি কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগ করে চলছে এরা। যেটা সাংবাদিকতার মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। তীব্র ক্ষোভ জানিয়েছে মূলধারার সাংবাদিকবৃন্দ।
সরজমিনে দেখা যায়, সাতক্ষীরার বিশেষ কিছু সরকারি দপ্তরগুলোকে লক্ষ্য করে নাম সর্বস্ব ভূঁইফোড় পত্রিকার কার্ড ঝুলিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাচ্ছেন ঈদের বকশিস। ঈদ সালামির৷ নামে কর্মকর্তাদের বিড়ম্বনা পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলেছে ইতিমধ্যে। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা দাবি করে জনপ্রতি ঈদ সালামি দাবি করছে কথিত সাংবাদিকরা। অনেক কর্মকর্তা এদের চাপে অফিস ঠিকমত করতে পারছে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সরকারি দপ্তরের প্রধান জানান, কিছু ব্যক্তি গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে কথা বলতে এসে ঈদ সালামি দাবি করছে। ঈদের বেশকয়েকদিন বাকি থাকলেও আগে ভাগে টাকার তাগিদা দিচ্ছে মনে হয় এরা আমাদের কাছে পাওনা টাকা পাবে। এই পর্যন্ত পর্যন্ত ৩-৪ জন করে ১০/১৫ টি গ্রুপ ঈদ সেলামির জন্য টাকা চাওয়া হয়ে গেছে। বিশেষ তালা-পাটকেলঘাটার কিছু সাংবাদিক ঝাক বেঁধে আসছে টাকা না দিলে চেয়ারে বসে থাকছে।
অনেকে পত্রিকার নামে ঈদ কার্ড বানিয়ে দাওয়াত দিয়ে যাচ্ছে বিনিময়ে টাকা চাচ্ছে। আমরা বিপাকে পড়েছি অফিস করতে পারছি না।
অন্যআরেকজন সরকারি কর্মকর্তা জানান, অফিসে কাজের মধ্যে এসে একদল অপরিচিত মুখ সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে টাকা চাচ্ছে। এদের জ্বালায় অফিসের কাজ করতে পারছি না। নাম সর্বস্ব পত্রিকার পরিচয় দিচ্ছে বলছে কেউ জেলা প্রতিনিধি,কেউ স্টাফ রিপোর্টার, আবার কেউ ক্রাইম রিপোর্টার দাবি করছে। তাদের আইডি কার্ড অনুযায়ী যেসব পত্রিকার নাম ব্যবহার করছে জীবনে নাম শুনেনি চোখে ও দেখেনি।একটি আইডি কার্ডর জোরে তারা আমাদের অনেকসময় চাপ দিচ্ছে। এসকল সাংবাদিক পরিচয়দানকারীদের অনেকের সম্পর্কে শুনেছি কেউ বাসের হেলপার, হকার থেকে সাংবাদিক, সাইকেল মিস্ত্রী ছিল। তারা এখন আইডি কার্ড ম্যানেজ করে সাংবাদিক পরিচয় দিচ্ছে। তবে এটা সত্য মূলধারার গণমাধ্যমে যারা কাজ করে তারা কখন বিরক্ত করেনি।
তাদের সহযোগিতা কামনা করছি এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য।
নাগরিক নেতা অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, হলুদ সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে হবে এরা বিভিন্ন ভাবে মানুষকে হয়রানি করে। এরা সাংবাদিকতাকে পুঁজি করে বিভিন্ন মহলে চাঁদাবাজি করে চলছে। ঈদকে সামনে রেখে বিভিন্ন সরকারি অফিসে কর্মকর্তাদের হুমকি দিয়ে টাকা নিচ্ছে যার ফলে মূলধারার সাংবাদিকদের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে। আমরা চাই সরকার এসকল হলুদ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেক।সাংবাদিকতার মত মহানপেশাকে যেন কলংকিত করতে না পারে।
বৈশাখী টেলিভিশনের সাংবাদিক শামীম পারভেজ বলেন, হলুদ সাংবাদিকরা গণমাধ্যমের ভাইরাস। এরা সংবাদিকতাকে কলুষিত করে চলেছে। এদের কারণে সাংবাদিকদের মান ক্ষুন্ন হচ্ছে সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দিতে বিব্রতবোধ করছি। বিশেষ করে একদল হলুদ সাংবাদিক ভূঁইফোড় পত্রিকার কার্ড ঝুলিয়ে বিভিন্ন দপ্তরে ঈদ সেলামি জন্য চাপ দিচ্ছে।অনেক কর্মকর্তা অফিস করতে পারছে না এগুলো বন্ধ করা জরুরী।
ফিন্যান্সশিয়াল এক্সপ্রেস ও ভোরের আকাশের সাতক্ষীরা প্রতিনিধি খন্দকার আনিছুর রহমান বলেন, হলুদের জন্য সাংবাদিকতার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। যারা বিভিন্ন অফিসে ৫০০ থেকে১০০০ টাকার জন্য সরকারি কর্মকর্তাদের চাপ প্রয়োগ করছে। ২৩ বছর সাংবাদিকতা করছি আজ মনে হচ্ছে হলুদের জন্য এইপেশা ছেড়ে দেয়।এই হলুদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসন টানিয়ে দিক তাহলে সাধারণ মানুষ বুঝবে মূলধারার সাংবাদিক কারা।
দৈনিক জনবাণীর সাংবাদিক মোস্তফা রায়হান সিদ্দিকী বলেন, হলুদের কারণে সাংবাদিকতা নষ্ট হতে বসেছে এই পেশার ভাবধারা ফিরিয়ে আনার জন্য সিনিয়র সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করা জরুরী। সরকারি দপ্তরে যারা ঈদ সালামি চেয়ে অতিষ্ঠ করছে এদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক।
