শতকোটি ডলারের মার্কিন অস্ত্র কিনছে ইসরায়েল ও সৌদি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের কাছে কয়েক শ কোটি ডলারের আধুনিক অস্ত্র বিক্রির চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা আরো জোরদার করতে চায়।
অনুমোদিত চুক্তির আওতায় ইসরায়েলকে ৩৮০ কোটি ডলার মূল্যের ৩০টি অত্যাধুনিক ‘অ্যাপাচি অ্যাটাক হেলিকপ্টার’ সরবরাহ করা হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আকাশপথের সুরক্ষা জোরদার করতে সৌদি আরবের কাছে ৯০০ কোটি ডলার মূল্যের ৭৩০টি ‘প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র’ বিক্রির ঘোষণাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখা এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা শক্তি বৃদ্ধির একটি বড় উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। খবর রয়টার্স ও এএফপির।
ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পাদিত এই সামরিক চুক্তি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের নিরাপত্তার প্রশ্নে শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসরায়েলকে শক্তিশালী ও আত্মরক্ষায় সদা প্রস্তুত রাখতে সহায়তা করা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত বলেও উল্লেখ করা হয়।
হেলিকপ্টারের পাশাপাশি এই চুক্তিতে আরো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ১৮০ কোটি ডলার মূল্যের ‘জয়েন্ট লাইট ট্যাকটিক্যাল ভেহিকল’ (জেএলটিভি), যা আধুনিক সাঁজোয়া ও বহুমুখী হালকা সামরিক যান হিসেবে ব্যবহৃত হবে। প্রতিবছরই ইসরায়েলকে বড় অঙ্কের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসলেও, বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সৌদি আরবের জন্য অনুমোদিত ৯০০ কোটি ডলারের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা আকাশপথে যেকোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম। উপসাগরীয় এই দেশটি দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ফলে এই উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদি আকাশসীমার নিরাপত্তা আরো সুদৃঢ় করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদিও ফিলিস্তিন ইস্যু ও গাজা যুদ্ধের কারণে রিয়াদ ও তেল আবিবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া বর্তমানে স্থবির হয়ে আছে, তবুও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশকেই সামরিকভাবে শক্তিশালী করতে সমানভাবে তৎপর রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা এবং তেহরানের অভ্যন্তরীণ অস্থিতিশীলতা পুরো অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমানে গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত থমথমে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজা যুদ্ধবিরতি এখন দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণই প্রধান লক্ষ্য।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ৭১ হাজার ৬৬৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। এমন ভয়াবহ মানবিক সংকট ও ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা ইরানের মিত্রদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে বলে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
