লারিজানি ও সোলাইমানিকে হত্যার দাবি করছে ইসরায়েল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলি লারিজানি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন- এমন দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। একইসঙ্গে ইরানের বাসিজ ইউনিটের কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানিও নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, রাতভর ইসরায়েলি হামলার পর ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানির নিহত হওয়ার তথ্য তিনি ‘মাত্রই’ পেয়েছেন।
ইরান এ ব্যাপারে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। ইরানের বার্তা সংস্থা মেহের ও তাসনিমের বরাত দিয়ে বিবিসি লিখেছে, আলি লারিজানির বিষয়ে শিগগিরই একটি বিবৃতি প্রকাশ করবে তেহরান।
ইসরায়েলি বাহিনী সোমবার রাতে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং শিরাজ ও তাব্রিজ শহরে একযোগে হামলা চালায়। এসব হামলায় তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও কমান্ড সেন্টারগুলোকে নিশানা করার কথা জানিয়েছে।
এর মধ্যেই তেহরানে লারিজানিকে নিশানা করে হামলা চালানোর কথা আইডিএফের পক্ষ থেকে বলা হয়।
কে এই আলি লারিজানি?
দশকের পর দশক ধরে ইরানের শাসন কাঠামোর মধ্যে সংযত ও বাস্তববাদী নেতা হিসেবে পরিচিত আলি লারিজানি ছিলেন ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব। তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালে দেশের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৫৮ সালে ইরাকের নাজাফে জন্ম নিন লারিজানি। আমোলের এমন এক ধনী ও শক্তিশালী পরিবারে তার জন্ম যাকে একসময় টাইম ম্যাগাজিন ‘ইরানের কেনেডি পরিবার’ হিসেবে বর্ণনা করেছিল। তার বাবা ছিলেন একজন বিশিষ্ট ধর্মীয় পণ্ডিত।
২০ বছর বয়সে ফরিদেহ মোতাহারিকে বিয়ে করেন লারিজানি। ফরিদেহ ছিলেন ইসলামী প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মেয়ে।
অনেক সমসাময়িক ব্যক্তির বিপরীতে, লারিজানির একাডেমিক পটভূমি ছিল ধর্মনিরপেক্ষ। তিনি গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জনের পর পাশ্চাত্য দর্শনে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন।
২০০৮ সালে তিনি পার্লামেন্টে প্রবেশ করেন এবং টানা তিন মেয়াদে স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির অনুমোদন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
২০২৫ সালের আগস্টে লারিজানি আবারও সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব পদে ফিরে আসেন এবং ইরানের নেতৃত্বে পুনরায় একজন প্রধান ব্যক্তিত্ব হিসেবে আবির্ভূত হন।
বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলামরেজা সোলাইমানি কে?
আল জাজিরা লিখেছে, ১৯৬৪ সালে জন্ম নেওয়া সোলাইমানি তরুণ বয়সে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরে যোগ দেন।
