হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জাহাজ চলাচলে কঠোর হুঁশিয়ারি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সামরিক জাহাজ চলাচল নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের কোনো চেষ্টা করলে বিদেশি সামরিক জাহাজকে কঠোর ও শক্ত জবাব দেওয়া হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) প্রেসটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে আইআরজিসি নৌবাহিনী জানায়, তারা এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর ‘পূর্ণ ও বুদ্ধিমত্তাপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ বজায় রেখেছে। নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে শুধু বেসামরিক জাহাজগুলোকেই চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।
বিবৃতিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার দাবিকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা হয়। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়, কোনো সামরিক জাহাজ প্রবেশের চেষ্টা করলে তা নির্ণায়ক ও কঠোর প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।
আরো পড়ুন : ইরানে অভিযান এখনও শেষ হয়নি: নেতানিয়াহু
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার পর তাদের প্রতিপক্ষ ও মিত্রদের জন্য এই প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্বের প্রায় ২৫ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেল এবং ২০ শতাংশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে প্রণালি বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল কমান্ড হেডকোয়ার্টারস জানিয়েছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নির্দেশনায় হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এখন নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে।
এদিকে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে ফিরছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। রোববার (১২ এপ্রিল) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসলামাবাদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জেডি ভ্যান্স বলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানকে তিনি ধন্যবাদ জানান তাদের অসাধারণ আতিথেয়তার জন্য। তিনি জানান, আলোচনায় কোনো ঘাটতি থাকলে তার জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়।
ভ্যান্স বলেন, গত ২১ ঘণ্টা ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক হলেও দুঃখজনকভাবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। এটি ইরানের জন্য বেশি ক্ষতিকর ফল বয়ে আনবে বলে তার মত।
তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘রেড লাইন’ বা অগ্রহণযোগ্য সীমারেখা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। কোন বিষয়ে ছাড় দেওয়া যাবে এবং কোন বিষয়ে নয়, তা পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে ইরান সেই শর্তগুলো মেনে নেয়নি বলেই চুক্তি হয়নি।
