লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত ৫
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৭ এএম
ছবি : সংগৃহীত
লেবাননে যেন নামমাত্রই চলছে যুদ্ধবিরতি। দেশটিতে প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলের হামলায় প্রাণহানি ঘটছে। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক সাংবাদিকসহ অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণ লেবাননের আত-তিরি গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বুধবার ভোরে আত-তিরি গ্রামে একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে প্রথম ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে গাড়িতে থাকা দুই ব্যক্তি নিহত হন। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, গাড়িটি হিজবুল্লাহর একটি সামরিক স্থাপনা থেকে বের হয়েছিল। খবর আল-জাজিরার।
হামলার খবর সংগ্রহ করতে স্থানীয় গণমাধ্যম ‘আল আখবার’-এর সাংবাদিক আমাল খলিল ও জয়নাব ফারাজ ঘটনাস্থলে যান। এ সময় দ্বিতীয় দফায় একটি ভবন লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনী হামলা চালালে তারা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতার পর আমাল খলিলকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং জয়নাব ফারাজকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকরা যে ভবনে আশ্রয় নিয়েছিলেন, সেটি লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীরা জানান, ধারাবাহিক হামলার কারণে রেড ক্রস ও অন্যান্য উদ্ধারকারী দল দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের পথ লক্ষ্য করেও হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
আরো পড়ুন : যুদ্ধবিরতি অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজারে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি
লেবাননের তথ্যমন্ত্রী পল মরকোস এই ঘটনাকে গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি হামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এই সংঘাত এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ওয়াশিংটনে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী রোববার বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।
লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত চারজন সাংবাদিক রয়েছেন।
এদিকে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিবাদে পাল্টা হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। তারা দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি অবস্থান লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায়। তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ওই ড্রোন আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে।
লেবাননে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে হামলায় আহত দ্বিতীয় ফরাসি সেনার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গত ১৮ এপ্রিলের ওই হামলার জন্য হিজবুল্লাহকে দায়ী করা হলেও সংগঠনটি তা অস্বীকার করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা নতুন করে বৃদ্ধি পায়। এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরের যুদ্ধবিরতির পর হিজবুল্লাহ বড় ধরনের হামলা না চালালেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিয়মিত চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।
