পুলিশ ও মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষে রণক্ষেত্র কারওয়ান বাজার
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:২৯ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রতিবাদে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সকাল থেকে শুরু হওয়া অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে পুলিশ অগ্রসর হলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, বন্ধ হয়ে যায় আশপাশের দোকানপাট এবং মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় যান চলাচল।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে আন্দোলনকারীরা পিছু হটে বাংলামোটরের দিকের সড়কে অবস্থান নেন এবং সেখানে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (দুপুর ২টা ১০ মিনিট) থেমে থেমে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা চলছিল।
এর আগে কারওয়ান বাজার মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালনরত মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের লাঠিপেটা করে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান, রায়ট কার ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করা হয়।
এনইআইআর ব্যবস্থা চালুর প্রতিবাদ, বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তিসহ কয়েক দফা দাবিতে রোববার পরিবারসহ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। একইসঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণাও দেয় সংগঠনটি।
ঘোষণা অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারা মোড় অবরোধ করে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। তারা সড়কে বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। এতে বসুন্ধরা থেকে কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ প্রথম দফায় লাঠিপেটা করে আন্দোলনকারীদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। পরে দুপুর ১২টার দিকে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ পুনরায় সড়কে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে এবং পুনরায় লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এ সময় কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে ব্যবসায়ীদের আশপাশের শপিংমলের ভেতরে সরিয়ে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও আনঅফিশিয়াল হ্যান্ডসেটের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকারের পূর্বঘোষণা অনুযায়ী ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে এনইআইআর ব্যবস্থা। এর আওতায় মোবাইল নেটওয়ার্কে ব্যবহৃত প্রতিটি ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে সংযুক্ত করা হচ্ছে। তবে শুরু থেকেই এই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আসছেন মোবাইল ফোন ব্যবসায়ীরা।
