এবার নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াবেন সিইসি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০১:১৩ পিএম
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার উভয় পদ বর্তমানে শূন্য থাকায় সংবিধানের বিশেষ বিধান অনুযায়ী সিইসি এই দায়িত্ব পালন করবেন বলে সংসদ সচিবালয় ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের বিভিন্ন উপধারায় উল্লেখ রয়েছে, স্পিকার বা তার মনোনীত কোনো ব্যক্তি শপথ পাঠ করাতে ব্যর্থ হলে বা পদটি শূন্য থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ওপর এই দায়িত্ব বর্তায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্পিকারের পদত্যাগ এবং ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সংবিধানের ১৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সাধারণত বিদায়ী স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। তবে ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তি শপথ না পড়ালে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে এই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
এছাড়া সংবিধানের তৃতীয় তফসিল অনুযায়ী বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনে সিইসি শপথ গ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণের আগেই সংসদ অধিবেশন কক্ষ ও শপথ কক্ষ সংস্কারের কাজ শেষ করে নতুন সংসদ সদস্যদের বরণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুল রহমানেল মাছউদ বলেন, সংবিধানের বিধানের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। স্পিকার না থাকলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পাঠ করাবেন, এটি নিশ্চিত। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও সংসদ সচিবালয়ের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় চলছে এবং একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
আরো পড়ুন : ভোটের দিন চলবে বাড়তি মেট্রো ট্রেন
সংবিধান বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, স্পিকার অনুপস্থিত থাকলে সিইসির মাধ্যমে শপথ গ্রহণ সম্পূর্ণ বৈধ এবং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার মধ্যেই পড়ে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শপথ গ্রহণে বিলম্ব হলে সংসদের বৈধতা ও কার্যক্রম শুরু নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে।
আইন অনুযায়ী নির্বাচনের গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন সংসদ গঠিত হয়।
সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র লেজিসলেটিভ ড্রাফট এমএম ফজলুর রহমান জানিয়েছেন, এখনও চূড়ান্ত নির্দেশনা না এলেও সংবিধানের ১৪৮(২) ও ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা মাথায় রেখে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে কোনো সাংবিধানিক সংকট ছাড়াই নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
