বিমানের আলোচিত ফিরোজকে বাধ্যতামূলক অবসর
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণের গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জুনিয়র গ্রাউন্ড অফিসার ফিরোজ-উজ-জামানকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিমানের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) উম্মে কুলছুমের স্বাক্ষরিত আদেশে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।
জানা যায়, সিন্ডিকেট করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ, নারী সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ এবং নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করার মতো গুরুতর অভিযোগ ছিলো তার বিরুদ্ধে। তাঁর একগুয়েমি ও উদ্ধত আচরণে অতিষ্ঠ ছিলেন সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সম্প্রতি এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে তার নামে লিখিত অভিযোগ জমা পড়লে নড়েচড়ে বসে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। বিভাগীয় তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয় এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী চার্জশিট প্রস্তুত করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য সাত দিন সময় দেওয়া হলে, শাস্তির মুখে পড়ার ভয়ে তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর আবেদনের প্রেক্ষিতেই তাঁকে অবসর প্রদান করা হয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, ‘ফিরোজ-উজ-জামান, পি-৩৬৫০৭, বিগত ১৯৯৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রাউন্ড সার্ভিস অ্যাসিসট্যান্ট হিসাবে গ্রাহক সেবা পরিদফতরে কাজে যোগদান করেন। তিনি অফিস চলাকালে বিমানের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান না করে, অর্পিত দায়িত্ব পালনে বিরত থাকেন। দায়িত্ব ও পদমর্যাদার সীমা অতিক্রম করে ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক অনাচার এবং কর্মক্ষেত্রে অনৈতিক আচরণে লিপ্ত ছিলেন।’
বিমানের অভ্যন্তরীণ তদন্তে একাধিক সাক্ষ্য, লিখিত জবানবন্দি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তদন্তে দেখা যায়, তিনি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলে সহকর্মীদের ওপর প্রভাব খাটানোসহ তাঁদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করতেন। এমনকি ডিউটি রোস্টার ও হজ পোস্টিংয়ের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়াগুলোকে তিনি ব্যক্তিগত বাণিজ্যে রূপ দিয়েছিলেন। ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মাধ্যমে গড়ে তুলেছিলেন একটি বেআইনি আর্থিক লেনদেনের নেটওয়ার্ক, যার অকাট্য প্রমাণ মিলেছে নিরাপত্তা তদন্তে। তার এই অপকৌশল কেবল প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকেই বিপন্ন করেনি, বরং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভাবমূর্তি ও নৈতিক সেবার পরিপন্থী হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি যে ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম করেছেন, তা একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। তাঁর এই অবৈধ লেনদেন ও ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা ও সুশাসনের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাকে বড় ধরনের সংকটে ফেলেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, তিনি দাপ্তরিক পরিধির বাইরে গিয়ে জুনিয়র নারী কর্মীদের হোয়াটসঅ্যাপে অশোভন বার্তা ও কুপ্রস্তাব পাঠাতেন। এছাড়া সহকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ধার করা টাকা ফেরত না দেওয়াসহ নানা অপেশাদার আচরণের মাধ্যমে তিনি বিমানের চাকরিবিধি চরমভাবে লঙ্ঘন করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তার বিরুদ্ধে পত্র স্মারক নং-৩০,৩৪,০০০০,০৯৩, ১৪,০০০,২৫/২৯৪ তারিখ-২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর কারণ দর্শানো নোটিশ জারি করা হয়। তিনি একই বছরের ২০ নভেম্বর কর্তৃপক্ষ বরাবর কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব প্রদান করেন, যা কর্তৃপক্ষের নিকট সন্তোষজনক বিবেচিত হয়নি। তার এ ধরনের কর্মকান্ডের ফলে শুধু বিমানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বরং বাংলাদেশ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিঃ কর্তৃক গৃহীত ও অনুসৃত বাংলাদেশ বিমান কর্পোরেশন কর্মচারী (চাকরি) প্রবিধানমালা, ১৯৭৯ এর ৫৫(১)(বি), (সি) এবং ৫৫(২) এর (বি), (সি), (ডি) (জি), (এইচ) (ওয়ায়), (জেডডি), (জেড এইচ) এবং ((জেড আই) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণের সামিল ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বিমানের একটি সূত্র বলছে, ফিরোজ এতটাই বেপরোয়া ছিলো যে তিনি কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করেনি। যখনই কেউ তার অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গেছে তখনই তাকে নানাভাবে হুমকি ও হয়রানি করেছে।
সূত্র বলছে, এসব কিছু থেকে বাঁচতেই সেচ্ছায় অবসর বেছে নেয় সে। কর্তৃপক্ষ সেটি অনুমোদন করে।
