একাত্তরের গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের পাশে ভারত
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৯:০৩ এএম
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি : সংগৃহীত
একাত্তরে পাকিস্তানের চালানো গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল নয়া দিল্লিতে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের ঘটনাগুলো কোনোভাবেই উপেক্ষা করা যায় না।
‘অপারেশন সার্চলাইট’ এর সময় পাকিস্তানের চালানো নৃশংসতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব এ সম্পর্কে অবগত। ওই অভিযানে লাখো নিরীহ মানুষ নিহত হন, নারীদের ওপর চালানো হয় ব্যাপক যৌন সহিংসতা এবং কোটি মানুষ শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
জয়সওয়াল বলেন, এসব বর্বরতা বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল, তবে পাকিস্তান এখনো তাদের অপরাধ অস্বীকার করে যাচ্ছে। ন্যায়বিচারের প্রশ্নে ভারত বাংলাদেশের পাশে রয়েছে বলেও তিনি জানান।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী বাঙালির মুক্তিকামী আন্দোলন দমনে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ শুরু করে। ওই রাতেই শুরু হয় ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা, যেখানে ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান নিয়ে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস এবং পিলখানাসহ বিভিন্ন এলাকায় নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। অসংখ্য মানুষ নিহত হন, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং শহীদ মিনার ধ্বংস করা হয়। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লীগ নেতা, ছাত্রনেতা ও বুদ্ধিজীবীদের গ্রেপ্তার ও হত্যা, বাঙালি সেনা ও পুলিশ সদস্যদের নিরস্ত্রীকরণ এবং শেখ মুজিবুর রহমান-এর নেতৃত্বাধীন অসহযোগ আন্দোলন দমন করে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
আরো পড়ুন : পুলিশ হত্যাসহ সব অপরাধের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হবে
সেই রাতেই ধানমণ্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বঙ্গবন্ধুু শেখ মুজিবুর রহমানকে। গ্রেপ্তারের আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। এরপর নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মদান ও আড়াই লাখ নারীর সম্ভ্রমহানির মধ্য দিয়ে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় এবং বিশ্বের মানচিত্রে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
১৯৭১ সালের ৩০ মার্চ ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফে সাংবাদিক সায়মন ড্রিং তার প্রতিবেদনে ঢাকাকে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ও আতঙ্কিত নগরী হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি উল্লেখ করেন, মাত্র ২৪ ঘণ্টার গোলাবর্ষণে অন্তত সাত হাজার মানুষ নিহত হয় এবং বিশাল এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়।
ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল আরো জানান, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে বহুমাত্রিকভাবে আরো জোরদার করতে চায় ভারত। তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আলোচনা চলছে।
