বিগত সরকারের সময় র্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব কম : র্যাব ডিজি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গত দেড় বছর এবং এর আগের সরকারের সময়ে র্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব বেশি নেই বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটরের র্যাবের কথিত খুন, গুম ও ক্রসফায়ারের নথি তলব করে মামলাগুলো তদন্তে সহযোগিতা বিষয়ে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আমাদের কাছে যা আছে, তা দেব। কোনো তথ্য না থাকলে আমরা তা প্রকাশ করব। তবে ট্রাইব্যুনাল এখনো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। যোগাযোগ করলে অবশ্যই সহযোগিতা করা হবে।
র্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে দেশি-বিদেশি সংস্থার চাপের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাহিনী সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ভার র্যাবের নয়, সরকার এ বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। ডিজি বলেন, আমাদের মূল কাজ হলো দায়িত্ব পালন করা। আমরা রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি, তাই কাজের মাধ্যমে র্যাবকে জনগণের সামনে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করা আমাদের কর্তব্য। সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত নেবে, আমরা আমাদের কাজ করে যাব।
বিগত সময়ে র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত দেড় বছর এবং এর আগের সরকারের সময়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, র্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব বেশি নেই। সঠিকভাবে পরিচালনা করলে র্যাব সঠিকভাবে কাজ করতে পারে। সরকার এ বিষয়ে চেষ্টা করছে এবং আমরা কিছু নির্দেশনা পেয়েছি।
আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো গোপন চুক্তি নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
জলদস্যু ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পুনঃসক্রিয়তার বিষয়ে তিনি জানান, র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে। নির্বাচনসহ পূর্বে পর্যাপ্ত মনোযোগ দেওয়া সম্ভব না হলেও এখন তথ্য সংগ্রহ চলছে।
জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস নির্মূল নিয়ে ডিজি বলেন, জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাস– আমরা কাজ করছি। যে ‘বাদ’-ই থাকুক না কেন, আমরা তা নির্মূল করতে পারব।
কিশোর গ্যাং বা কিশোর অপরাধী চক্রের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি দেশে প্রকট আকার ধারণ করেছে। পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারাও উন্মোচন করুন কারা কিশোর গ্যাংকে সহায়তা করছে, তাহলে আমাদের কাজ সহজ হবে।
র্যাবের নাম পরিবর্তন বা সংস্কারের বিষয়ে ডিজি জানান, পুনর্গঠন বা কাঠামোগত পরিবর্তন সরকারের বিবেচনার বিষয়। র্যাবের অগ্রাধিকার হলো অর্পিত দায়িত্ব পালন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তে কেউ ছাড় পাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে তিনি বলেন, র্যাব গঠনের পর থেকে এই ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। কাজের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা বা পদস্খলন ছিল। আমরা যদি তা সংশোধন করতে পারি, নিষেধাজ্ঞার বিষয় আর থাকবে না।
