খলিলুর রহমান-জয়শঙ্কর বৈঠক, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবি
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি ভারতের কাছে পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা। শনিবার (১১ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন শেষে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানএর সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়েও আভাস দেন
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে (৮ এপ্রিল) দিল্লি সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করএর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠক প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান বলেন, বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি। এই সফরেও আমরা সেই দাবির পুনরাবৃত্তি করেছি। তবে কৌশলগত কারণে আলোচনার সব তথ্য প্রকাশ করতে চাননি তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দু জানিয়েছে, শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাঁদের প্রত্যর্পণের জন্য এই আবেদন জানানো হয়েছিল।
আরো পড়ুন : ‘ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর’
সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধটি ভারতের নিজস্ব বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যাচাই করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সফরটি অবশ্যই হবে, তবে এখনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। প্রস্তুতির জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন এবং টেলিফোনে কথা বলেছেন। উভয় পক্ষই সম্পর্ক আরো এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
দিল্লির বৈঠকগুলো নিয়ে যথেষ্ট আশাবাদী বলে উল্লেখ করেন খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা সম্পর্কের অগ্রগতি দেখতে পাব বলে আশা করছি।
এদিকে, দিল্লির বৈঠকে ভারত কর্তৃক গত এক বছর ধরে সীমিত রাখা ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালুর বিষয়টিও উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, এই সংকট আরো তীব্র হতে পারে। ১৯৭০ এর দশকের তেল সংকটের মতো এটি উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তাই আমাদের সম্মিলিতভাবে এটি মোকাবিলা করতে হবে।
তিনি আরো জানান, এ বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক জোটকে সক্রিয় করতে চায়। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় চালুর ওপরও জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, যদি আমরা সবাই একসঙ্গে কাজ করি এবং অংশগ্রহণে অনাগ্রহী দেশগুলোর সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারি, তাহলে সার্ক সম্মেলন আয়োজনের কোনো বাধা থাকবে না। এটি মূলত পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর বিষয়।
