পরিবহন মালিক সমিতি
সরকারি সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আগের ভাড়াই বহাল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত বাস ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংগঠনের মহাসচিব মো. সাইফুল আলম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের পক্ষ থেকে বাস ভাড়া বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত পরিবহন মালিকরা কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করতে পারবেন না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের প্রতি ভাড়া সমন্বয়ের আহ্বান জানানো হয়। এতে বলা হয়, ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১৫ টাকা বৃদ্ধি এবং ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেড়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাড়া সমন্বয়ের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্যের অভিযোগ
এদিকে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান ও শাহবাগ এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, স্বল্প দূরত্বের বাসে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এতে যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
যাত্রী সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, “আগে ভাড়া ছিল ১০ টাকা, এখন ১৫ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এসএসসি পরীক্ষা চলায় অনেকেই বাধ্য হয়ে এ ভাড়া দিচ্ছে।”
দূরপাল্লার রুটেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যাত্রী নুর নবী মোস্তফা জানান, কক্সবাজার ও সিলেটগামী বাসে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ঢাকা-মৌলভীবাজার রুটে ৫৭০ টাকার ভাড়া এখন ৬৫০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
একজন প্রতিবেদক সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফেরার পথে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
যদিও পরিবহন মালিক সমিতি ভাড়া না বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে, তবে বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ যাত্রীদের।
চালকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে ভাড়া সমন্বয় প্রয়োজন। তৃষা পরিবহনের এক চালক বলেন, “তেলের দাম বেড়েছে, তাই ভাড়াও বাড়বে। পাশাপাশি তেল সংগ্রহেও সমস্যা হচ্ছে।”
অন্যদিকে যাত্রীকল্যাণ সংগঠনগুলো এই পরিস্থিতিকে ‘ভাড়া নৈরাজ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে।
বর্তমানে ডিজেল ১১৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এর প্রভাব বাস ছাড়াও লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রাইড শেয়ারিং সেবায় পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সাধারণ যাত্রীরা দ্রুত এ অস্থিরতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।
