×

জাতীয়

‘প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর নয়, বন্ধুত্বের’

Icon

কাগজ ডেস্ক

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

‘প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্ক স্বামী-স্ত্রীর নয়, বন্ধুত্বের’

ছবি : সংগৃহীত

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব চায়, কিন্তু সেই সম্পর্ক কখনোই দাসত্বের পর্যায়ে যেতে পারে না। বন্ধুত্ব হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে, এটি কোনও স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক নয়।’

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন কথা বলেন। 

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শনের স্মৃতিচারণ করে গয়েশ্বর বলেন, ‘জিয়াউর রহমান চাটুকারিতা পছন্দ করতেন না এবং বিশ্বাস করতেন যে, সমালোচনা হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান যখন যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন, তখন তিনি জাতিকে আত্মরক্ষার নয় বরং পাক হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। অথচ সেই উত্তাল সময়ে অনেক বড় বড় নেতাকে যুদ্ধের পরিবর্তে কেবল সাবধানে থাকার নির্দেশনা দিতে দেখা গেছে। বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই শহীদ জিয়ার সেই অবদানকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে চায় না।’ 

দেশের সমসাময়িক রাজনীতি ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে এই প্রবীণ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশ সবার সঙ্গে অর্থনৈতিক কারণে বন্ধুত্ব চায়, কিন্তু সেই বন্ধুত্ব কখনোই দাসত্বের নামান্তর হবে না। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে সমমর্যাদার ভিত্তিতে, জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নয়। প্রতিবেশীর সঙ্গে বন্ধুত্ব হবে, কিন্তু তা কখনোই স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মতো হওয়া উচিত নয়। স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ বজায় রাখাই হবে আমাদের মূল অগ্রাধিকার।’

বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেতৃত্বের প্রশংসা করে গয়েশ্বর রায় বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের একদিন খালেদা জিয়াকে ক্ষমা চাইতে বলেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের কাছে তিনি আজ মাদার-অফ-ডেমোক্রেসি হিসেবে স্বীকৃত। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কখনোই মাথা নত করেননি।’

এক-এগারোর সময়কার ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন বিরাজনীতিকরণের মুখে অনেক নেতা যখন দল ত্যাগ করেছিলেন, তখন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরাই খালেদা জিয়ার শক্তি হয়েছিলেন। তিনি জেল খেটেছেন কিন্তু দেশত্যাগ করেননি।’ 

এসময় জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন নেতৃত্বের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি জানান, বিপদের দিনে তারা বিএনপির পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানালেও বেগম খালেদা জিয়া সবসময়ই তাদের বিচারের স্বচ্ছতার দাবি তুলে উদারতা দেখিয়েছেন। 

জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন প্রসঙ্গে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যখন শুরু হয়, তখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি দ্রুততম সময়ে এই আন্দোলনকে নৈতিক ও সর্বাত্মক সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এটি কোনও একক দলের অর্জন নয়, বরং প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্কুলপড়ুয়া কিশোর-কিশোরী এবং বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত ত্যাগের ফসল। যারা আজ সংসদে আছেন তাদের পাশাপাশি অসংখ্য সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক কর্মী এই ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশের জন্য লড়াই করেছেন।’

মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান ভূ-রাজনীতির তুলনা করে তিনি বলেন, ‘১৯৪৭-এর দেশভাগ থেকে শুরু করে ৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, সবকিছুর মূলে ছিল বঞ্চনা ও শোষণ থেকে মুক্তি। অথচ আজও বিদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমরা জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পারছি না।’ 

গয়েশ্বর অভিযোগ করেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে আন্তরিকতার অভাব ও রাজনৈতিক নতজানু নীতির কারণে আমরা জাতীয় লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হচ্ছি। আমরা অতীতকে ভুলে থাকবো না, কিন্তু বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।’

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

গহীন গাঁয়ের আলোর মশাল ‘লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন’

গহীন গাঁয়ের আলোর মশাল ‘লতিফ মাস্টার ফাউন্ডেশন’

জলাবদ্ধতায় ডুবল ২০২ হেক্টর বোরো ধান

জলাবদ্ধতায় ডুবল ২০২ হেক্টর বোরো ধান

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪ বোয়িং উড়োজাহাজ

বিমানের বহরে যুক্ত হচ্ছে ১৪ বোয়িং উড়োজাহাজ

রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ রাইস

রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ রাইস

সব খবর

সম্পাদক : শ্যামল দত্ত

প্রকাশক : সাবের হোসেন চৌধুরী

অনুসরণ করুন

BK Family App