চূড়ান্ত অনুমোদন পেল পদ্মা ব্যারেজ
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভায় মোট ১৬টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১১ নম্বর কার্যতালিকায় ছিল পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প। এর আগে কয়েক দফা প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপন করা হলেও অনুমোদন মেলেনি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও প্রকল্পটি আলোচনায় এলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর পানি সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্বাদু পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
একনেক সভায় উপস্থিত এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। এতে লবণাক্ততা কমবে, মৃতপ্রায় নদীগুলোতে প্রাণ ফিরবে এবং কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
১৯৭৫ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল শুষ্ক মৌসুমে গঙ্গার ৩৫ থেকে ৪০ হাজার কিউসেক পানি ভাগীরথী-হুগলি নদীতে প্রবাহিত করা এবং কলকাতা বন্দরের নাব্যতা উন্নত করা। তবে উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশ অংশে পদ্মা নদীর প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এর প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতি ও বড়ালসহ বিভিন্ন নদী শুকিয়ে পড়েছে।
ফারাক্কা ব্যারেজের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় সরকার প্রথম ধাপে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুরো প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হতে পারে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। প্রকল্পটির প্রধান লক্ষ্য হলো শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার পানি সংরক্ষণ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ব্যবস্থায় স্বাদু পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে ফারাক্কা ব্যারেজকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের পর থেকেই শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ অংশে পানিপ্রবাহ কমে গেছে। এর ফলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী ও খালে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কৃষি, মৎস্য, নৌ-চলাচল, সুপেয় পানির প্রাপ্যতা এবং সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
