নীলফামারী
কুরবানির জন্য প্রস্তুত ৩ লক্ষ পশু
মো. রাজীব চৌধুরী রাজু, নীলফামারী
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম
ছবি: ভোরের কাগজ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে ঘিরে নীলফামারীর খামারগুলোতে এখন পুরোদমে চলছে কোরবানির পশু প্রস্তুতির শেষ পর্যায়ের পরিচর্যা। প্রাকৃতিক উপায়ে পশু লালন-পালন, পরিচর্যা ও মোটাতাজাকরণে ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নীলফামারীতে বাণিজ্যিক ও পারিবারিক মিলিয়ে মোট ৩৪ হাজার ৮০৩টি খামারে কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে ২ লাখ ৮২ হাজার ৮৫০টি। এর মধ্যে ষাঁড় ৫১ হাজার ৮৮১টি, বলদ ৪ হাজার ১৬৪টি, গাভী ২৫ হাজার ৮৬৫টি, মহিষ ৯৪টি, ছাগল ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩০৯টি এবং ভেড়া ১৫ হাজার ৫৩২টি।
সূত্র বলছে, জেলার চাহিদা মিটিয়েও ৫০ হাজার ১৭৪টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে, যা দেশের অন্যান্য জেলায় সরবরাহ করা হবে। এদিকে, জেলা প্রশাসনের সূত্র বলছে, পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে জেলা প্রশাসন।
সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন উপজেলার খামার ঘুরে দেখা যায়, খামারিরা প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। পশুর খাদ্যতালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, খৈল, সরিষার খৈল, গমের ভুসি, ধানের কুঁড়া ও খড়। নিয়মিত গোসল, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
খামারিরা বলছেন, কোরবানির পশু সুস্থ রাখতে ভ্যাকসিন, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিয়মিত দেওয়া হচ্ছে। ফলে এ জেলার পশুর প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বাড়ছে। তবে, পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি খামারিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুট্টা, খৈল ও অন্যান্য খাদ্যের দাম বাড়ায় গরু পালনে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবুও কোরবানির বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় খামারিরা শেষ মুহূর্তের পরিচর্যায় কোনো কমতি রাখছেন না।
জেলা সদরের পঞ্চপুকুর ইউনিয়নের উত্তরাশশী ধনীপাড়া এলাকার খামারি সাদেকুর রহমান বলেন, “এ বছর ২২টি গরু পালন করেছি। ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে বাড়িতে এসে দরদাম করছেন। আশা করছি এ বছর ভালো দাম পাব।”
সদরের ইটাখোলা এলাকার ‘মোহনা এগ্রো ফার্ম’-এর স্বত্বাধিকারী নুরুজ্জামান সুমন জানান, “এ বছর খামারে ৫০টি দেশি ষাঁড় প্রস্তুত রয়েছে। ইতোমধ্যে অনেক ক্রেতা আগাম বুকিং দিয়েছেন। খরচ বেড়েছে, কিন্তু প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করায় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি।”
যোগাযোগ করা হলে, নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও ভেটেরিনারি ডা. আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, “খামারিদের দানাদার খাদ্য, কাঁচা ঘাস ও ভিটামিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের নিষিদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার না করতে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। এ বছর জেলার চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু প্রস্তুত রয়েছে।”
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নীলফামারীতে পশু খামারগুলোতে রয়েছে চরম ব্যস্ততা। প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে লালিত দেশীয় পশুর সরবরাহ ও চাহিদা—দুই দিক থেকেই ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পশু পালনে খরচ বৃদ্ধি ও বাজার অনিশ্চয়তা থাকলেও ভালো দামের আশায় বুক বেঁধেছেন জেলার ছোট-বড় খামারিরা।
