আ.লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক, জাপায় একক
কাগজ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৪:৪২ পিএম
রংপুর-৫ (মিঠাপুকুর) আসন ১৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৭৭ হাজার। রংপুর জেলার মধ্যে বৃহত্তম উপজেলা এটি। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে আওয়ামী লীগে মনোনয়ন প্রত্যাশী অনেক। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাতীয় পার্টি এক হলে জোটের প্রার্থী এগিয়ে থাকবেন এমন আশা ভোটারদের। তবে জোট হোক বা না হোক দুদলের প্রার্থী দুজন হলে লড়াই হবে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর মধ্যে। এ আসনে বিএনপির শক্ত প্রার্থী না থাকলেও গোপনে থাকা জামায়াতের সমর্থন নিয়ে তারা হিসেব উল্টে দিতে পারে।
উপজেলার সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ভোটারদের সঙ্গে আলাপে একটি বিষয় স্পষ্ট বেরিয়ে এসেছে, তারা স্থানীয় একজন সৎ নেতাকে এমপি বানাতে চান যিনি পরবর্তী সময়ে মন্ত্রী হয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করবেন। সে ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকতে পারেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পঞ্চমবারের মতো কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমান। এ আসন থেকে তিনি চারবার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ দশম সংসদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বদ্বতায় নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে ছিলেন বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। বর্তমানে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। তার এই সময়ে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এলাকার রাস্তাঘাট, ব্রিজ-কালভার্ট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ, পুনর্নির্মাণ এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের জন্য ন্যাশনাল কর্মসূচি চালু হয়েছে। তিনি প্রতি বছর লাবণ্য প্রকল্পের মাধ্যমে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীদের ফ্রি সেনেটারি ন্যাপকিন বিতরণ করে আসছেন। ৪৪ হাজার উন্নত পরিবেশবান্ধব চুলা বিতরণ করেছেন। তিনি ছাড়াও দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী রয়েছেন আরো কয়েকজন। মনোনয়ন চাইতে পারেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, রংপুর চেম্বারের পরিচালক মোতাহার হোসেন মÐল মওলা এবং এইচ এন আশিকুর রহমানের একমাত্র ছেলে টিভি ব্যক্তিত্ব রাশেক রহমান।
বর্তমান এমপির এলাকায় থাকা না থাকা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনকেন্দ্রিক জটিলতায় স্থানীয় আওয়ামী লীগে দ্বিধা-দ্ব›দ্ব দেখা দিয়েছে। ভোটাররা বলছেন, এই দ্ব›দ্ব প্রকট হলে মিঠাপুকুরে আওয়ামী লীগের আসনটি ফসকে যেতে পারে। জাকির হোসেন সরকার বলেন, ৩২ বছর ধরে মিঠাপুকুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। এবার দলীয় মনোনয়ন চাইব। এটি আমার অধিকার। ১৭টি ইউনিয়নের জনগণের সঙ্গে আমার প্রাণের সম্পর্ক। তিনি মনে করেন, দলীয় মনোনয়ন পেলে বিপুল জনসমর্থনে বিজয়ী হতে পারবেন।
মনোনয়ন প্রত্যাশী মোতাহার হোসেন মওলা বলেন, গত দশম সংসদ নির্বাচনে আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। ভাইভাও দিয়েছিলাম। নেত্রীর নির্দেশ মেনেছি। আমি ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। এখন জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। সরকারের ভিশন ও মিশন নিয়ে মাঠে কাজ করছি। দলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে রয়েছেন বলে তিনি জানান। তিনি নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে গণসংযোগও শুরু করেছেন। মনোনয়ন পেলে নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে বিজয় নিশ্চিত করে ঘরে ফিরতে পারবেন বলে আশা করেন। তবে তিনি বলেন, নেত্রী যাকে মনোনয়ন দেবেন তার পক্ষেই কাজ করবেন।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে এ আসনে গণসংযোগ করছেন কানাডা প্রবাসী শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. আকমল হোসেন। এ আসনে মূলত এই ৪ জনই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন। তাদের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থীও হতে পারেন বলে মনে করছেন কেউ কেউ।
জাতীয় পার্টির মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ও জেলার সাধারণ সম্পাদক শিল্পপতি এস এম ফখর-উজ-জামান জাহাঙ্গীর। তিনি নবম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হয়ে লাঙ্গল প্রতীকে ১ লাখ ১ হাজার ২৯ ভোট পেয়েও আওয়ামী লীগ প্রার্থী এইচ এন আশিকুর রহমানের কাছে পরাজিত হন। এবারো তিনি দলীয় মনোনয়ন পেতে পারেন। উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান জাপা নেতা আব্দুল হালিম মÐলও লবিং করছেন দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য।
বিএনপিকে নিয়ে ভোটারদের তেমন কোনো আগ্রহ নেই। কারণ বিএনপি এ আসনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি। তবে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক খাজানুর রহমানের নাম আলোচনায় আছে। তিনি উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। তবে একাধিক নেতাকর্মী জানান, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে তাহলে এখানে নতুন মুখ প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ ক্ষেত্রে রংপুরে মিঠাপুকুর সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক ডাক্তার মমতাজ হোসেন মনোনয়ন পেতে পারেন।
নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন জামায়াত প্রার্থী শাহ মো. হাফিজুর রহমান। তিনি পেয়েছিলেন ৫৬ হাজার ভোট। জামায়াত এখানে প্রকাশ্য না হলেও গোপনে খুবই অ্যাকটিভ। জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার মতো অবস্থা থাকলেও তারা এবার আওয়ামী লীগকে হারাতে কৌশলে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। জোটবদ্ধভাবে একক প্রার্থী না হলে শর্ত সাপেক্ষে স্থানীয়ভাবে বিএনপি বা জাতীয় পার্টির প্রার্থীর পক্ষে মাঠে থাকতে পারেন তারা।
এ আসনে মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও বিএনপিতে যতই মাতামাতি হোক না কেন, জোট বা মহাজোট বহাল থাকলে ভোটের প্রেক্ষাপট পাল্টে যাবে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মেনে মহাজোটের প্রার্থীর পক্ষে সবাই একাট্টা হয়ে কাজ করবেন এমন কথা আওয়ামী লীগ ও জাপার মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং নেতাকর্মীদের।
