শেখ হাসিনা দীর্ঘ মেয়াদে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না, দ্য উইককে মির্জা ফখরুল
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের চলমান রাজনৈতিক রূপান্তর ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো ধরনের জোট গঠনের সম্ভাবনা দেখছেন না তারা। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেছেন, দীর্ঘ মেয়াদে রাজনীতিতে শেখ হাসিনা প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য উইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে জনগণ কার্যত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল এবং নতুন প্রজন্মের অনেক ভোটার কখনও প্রকৃত অর্থে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি। ফলে আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নির্বাচন কমিশন দায়িত্বশীলভাবে কাজ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় বাম ও ডান উভয় ধারার প্রায় ২০ থেকে ২৪টি রাজনৈতিক দল বিএনপির সঙ্গে ছিল। বিএনপি সরকার গঠন করলে সেই আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোর সমন্বয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সরকার গঠন করা হবে। তবে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে কোনো সমঝোতা নেই এবং তাদের সরকারে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন না বলে জানান তিনি।
ছাত্রদের গঠিত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জোটের চেষ্টা করা হলেও আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা হয়নি। এনসিপির দাবিকে বাস্তবসম্মত মনে হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আরো পড়ুন : দ্য ডিপ্লোম্যাটের প্রতিবেদন: বাংলাদেশের ‘সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী’ তারেক রহমান
আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দলটির অনুপস্থিতি নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন না। তাঁর মতে, আওয়ামী লীগের নতুন নেতৃত্ব ও নতুন ভাবমূর্তি নিয়ে রাজনীতিতে ফেরা উচিত ছিল, কিন্তু শেখ হাসিনা বিকল্প নেতৃত্বের সুযোগ দেন না।
তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, এতে বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। তারেক রহমান মানব উন্নয়নকেন্দ্রিক রাজনীতির কথা বলছেন এবং কর্মসংস্থান, নারীর ক্ষমতায়ন, কৃষকের কল্যাণ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সংবিধান সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।
ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, পানি বণ্টন সমস্যা, সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং ন্যায্য বাণিজ্য—এই তিনটি বিষয় দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। পারস্পরিক আস্থা ও সম্মানের ভিত্তিতে সংলাপের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রভাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলেও দীর্ঘমেয়াদে রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থাকবেন না। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক ব্যক্তিনির্ভর না হয়ে পারস্পরিক স্বার্থ ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এগিয়ে যাওয়া উচিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এছাড়া ১৯৭১ সালের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাকিস্তানকে গণহত্যার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে—এটাই বিএনপির অবস্থান। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে প্রতিবেশী দেশগুলোর একসঙ্গে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন বিএনপির এই নেতা।
