বাবা-ছেলের পরিকল্পনায় শ্যালকের পরিবার হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো হাসুয়া ও ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। জমি ভাগ-বাটোয়ারা সংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— নিহত হাবিবুর রহমানের ভাগ্নে সবুজ রানা (২৫), নিহতের দুলাভাই শহিদুল ইসলাম এবং তার ছেলে শাহিন মণ্ডল।
পুলিশ সুপার জানান, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করে। পরে টানা তদন্তের মাধ্যমে চারজনকে হত্যার রহস্য উদঘাটন করা হয়। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে দুজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আরও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে রাখা হয়েছে, তবে তদন্তের স্বার্থে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তে উঠে আসে, নমির উদ্দিন তার এক ছেলেকে ১৩ বিঘা জমি এবং পাঁচ মেয়ের প্রত্যেককে ১০ কাঠা করে জমি লিখে দেন। এ নিয়ে মেয়েদের পরিবার ও জামাইদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
ঘটনার আগের দিন (২০ এপ্রিল) সবুজ রানা ও হাবিবুর রহমান ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে যান। তবে গরু না কিনেই সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরেন। এর আগেই হাবিবুরকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল, যাতে তার পরিবারকে সরিয়ে দিয়ে জমির মালিকানা নিজেদের দখলে নেওয়া যায়।
সেদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সবুজ তার নানার বাড়িতে গিয়ে হাবিবুর, তার স্ত্রী পপি সুলতানা ও নানার সঙ্গে একসঙ্গে খাবার খায়। পরে বাইরে গিয়ে শহিদুল ও শাহিনের সঙ্গে হত্যার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, তারা রাতে বাড়িতে ঢুকে জমির দলিল দখল এবং হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে শহিদুল, শাহিন, সবুজ এবং স্বপন (নিহতের চাচাতো ভাই) মিলে হাবিবুর রহমানের ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমে শাহিন ধারালো হাসুয়া দিয়ে হাবিবুরকে হত্যা করে। এরপর একে একে তার স্ত্রী ও সন্তানদের হত্যা করা হয়।
এ সময় নমির উদ্দিনকে ঘরের ভেতরে আটকে রাখতে বাইরে থেকে দরজায় ছিটকিনি লাগানো হয়। পরে হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা বাইরে বের হলে সবুজ খড়ের গাদায় লুকানো হাসুয়া দিয়ে তাকে আঘাত করে হত্যা নিশ্চিত করে। এরপর শিশুদের ঘরে ঢুকে তাদেরও হত্যা করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল জমির উত্তরাধিকার দখল করা। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র শাহিনের বাড়ির কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং একটি ছুরি পুকুর থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন নিয়ামতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা সবুজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রসঙ্গত, এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) মধ্যরাতে উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতরা হলেন- উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের ছেলে হাবিবুর রহমান (৩২), তার স্ত্রী পপি সুলতানা (২৫), ছেলে পারভেজ (৯) এবং তিন বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
