জীবিকার সন্ধানে বের হয়ে ঝরলো দুই প্রাণ
সেকেন্দার আলী বাবলু, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৬ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
জীবিকার তাগিদে বাবা-ছেলে মিলে বের হয়েছিলেন বাদাম তোলার কাজ করতে। গন্তব্য ছিল প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরের সরিষাবাড়ী এলাকার তিস্তার চর। কিন্তু কর্মস্থলে আর পৌঁছানো হয়নি তাঁদের। পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন একই পরিবারের দুই সদস্য। শনিবার (৬ জুন) সকালে কুড়িগ্রামের রাজারহাট সদর ইউনিয়নের পুনকর মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী আলামিন ও মোস্তফা জানান, মোটরসাইকেলে করে উত্তর দিক থেকে আসছিলেন আবু ছিদ্দিক (৫৫) ও তাঁর ছেলে দুলু মিয়া (২০)। তাঁরা রেললাইন অতিক্রম করার সময় তিস্তা এলাকা থেকে আসা মাছবাহী একটি দ্রুতগতির পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাবা-ছেলে দুজনই মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে রাস্তার পাশে পড়ে যান। দুর্ঘটনার পর পিকআপ ভ্যানটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। দুলু মিয়াকে প্রথমে রাজারহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আবু ছিদ্দিককে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
বাবা-ছেলের মৃত্যুর খবর লালমনিরহাট জেলার পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের জোকমারী গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বামী ও সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েন আবু ছিদ্দিকের স্ত্রী। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশ।
নিহতের প্রতিবেশী হাফেজ উদ্দিন জানান, আবু ছিদ্দিকের দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। দুই মেয়েরই বিয়ে হয়েছে। বড় ছেলে মোস্তফা মিয়া স্ত্রীসহ চট্টগ্রামে একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। ছোট ছেলে দুলু মিয়াকে নিয়ে স্ত্রীসহ বাড়িতেই বসবাস করতেন আবু ছিদ্দিক। একসঙ্গে বাবা-ছেলের মৃত্যু পরিবারটিকে নিঃস্ব করে দিয়েছে।
রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ বলেন, পুনকর মসজিদসংলগ্ন এলাকায় পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া পিকআপ ভ্যানটি কুড়িগ্রামে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
