শিকদার শাওনের কবিতা
শিকদার শাওন
প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
শিকদার শাওনের কবিতা
প্রস্থান
চলে যেতে চাও? যাও তবে
কাঁটাতারের দেব আমি ও পথ থেকে
আটকাবো না কোনো মিনতির শিকলে।
তবে —এই প্রখর আলোয় যেও না,
অমনিশা সন্ধ্যয় মিলিয়ে যেও।
চলে যখন যাবেই, তবে সবটুকু নিয়ে যেও—
তোমার রেখে যাওয়া সব নীল স্মৃতি,
অযত্নে পড়ে থাকা হাসির টুকরো আর কথাগুলো।
স্মৃতি বড় বিষাক্ত জিনিস;
এরা ঘরে থেকে গেলে আমি ,
স্মৃতির দহনে পুড়ে হবো ছাই।
আড়াল হওয়ার আগে তোমার সবটুকু কুড়িয়ে নিও
তোমার শূন্যতাকে আমি পাথর করব,
তারপর সেই ভারী পাথর বুকে বেঁধে
তলিয়ে যাব জলসীমার অতলে—
যেখান থেকে মানুষ আর কোনোদিন ফিরে আসে না।
মৃত্যু আমাকে ঠিক খুঁজে নেবে আপন খেয়ালে,
যেভাবে ক্লান্ত পথিক খুঁজে নেয় বটবৃক্ষের মায়া।
আর বাঁচব না,
মানুষ যেভাবে বাঁচে—সেভাবে তো নয়ই
তুমি শুধু চলে যাও,
আমার অবচেতনের সীমানা ছাড়িয়ে বহু দূরে।
শোক অথবা নিয়ন
ষোলো থেকে ছাব্বিশ
হেমলক বিষ! অথবা অমৃত
চিনি ছাড়া রঙ চা
অথবা হলুদ শাড়িতে তুই!
যেন এক কালবৈশাখী
ভালোবাসার সঙ্গা হয় না
হয়না কোন বারণ
ছেড়ে যাওয়া হাতের ওপর
নিষিদ্ধ আবরণ
বৈশাখ যায় বৈশাখ আসে
নিত্য বাধা নিয়ম
কারো শোক রমনায়
আর কারো আলগা নিয়ন
আড়ি
ভুতের গল্প শুনে এখন
শিউরে ওঠেনা গা,
ক্লান্ত হয়ে চাঁদের বুড়িটা,
থামিয়েছে চড়কা
অন্ধকারে হাটলে একাও
হাটে না চাঁদ'টা
কমিক্স পাতায় মন বসে না,
হারিয়েছে সুখটা।
ফুলের ঘ্রাণে মাঝ রাতে আর
ঘুমটা ভাঙ্গে না
নিকোটিন পোড়া ঠোঁটে এখন
লজেন্স মানায় না।
ঘুমপাড়ানি মাসি পিসি'সব,
গিয়েছে ঘুমের বাড়ি
অনেক খুঁজেও না পেয়ে তাদের,
নিয়েছি এবার আড়ি।
বয়স বেড়েছে তাই বলে কি?
বর্গী এলো না দেশে,
মোরগ ডাকা ভোরে এখন
ঘুম এসে যায় চোখে।
