বিচার দাবি
৯ মাস নির্যাতনের পর লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন রায়হান
সুবিনয় রায় বাপ্পি, নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ মে ২০২৬, ০৯:০৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
লিবিয়ায় দীর্ঘ ৯ মাস নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে দেশে ফিরেছেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার যুবক রায়হান চৌধুরী (৩০)। তার ফেরায় স্বস্তি ফিরে এসেছে পরিবারে। বন্দিদশায় তাকে প্রতিদিন অস্ত্রের মুখে রেখে পরিবারের সঙ্গে কথা বলানো হতো। নির্যাতনে তার কোমরের মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
গত ২৪ মে রাতে লিবিয়া থেকে দেশে ফেরেন নবীগঞ্জ উপজেলার আউশকান্দি ইউনিয়নের বেতাপুর গ্রামের আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে রায়হান। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও আইওএমের (আন্তর্জাতিক অভিবাসী সংস্থা) সহায়তায় তিনি দেশে ফিরতে সক্ষম হন।
রায়হান জানান, ইতালিতে নেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারকারী চক্র তাকে প্রথমে ওমরাহ ভিসায় সৌদি আরব, পরে মিশর হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তাকে একটি ঘরে বন্দি করে রাখা হয়। বন্দিদশায় প্রতিদিন তাকে মারধর করা হতো এবং পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ২৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা মুক্তিপণ আদায় করা হয়।
তিনি বলেন, “আমাকে একে-৪৭ মাথায় রেখে পরিবারের সঙ্গে কথা বলানো হতো। সারাদিনে একটি রুটি খেতে দিতো। কখনও ভাত খেতে দেয়নি। মারপিট করে আমার কোমরের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে।”
রায়হান আরও জানান, একপর্যায়ে পাচারকারীরা তার হাত-পা কেটে পঙ্গু করার পরিকল্পনা করে। পরে সুযোগ বুঝে আরও কয়েকজনের সঙ্গে একটি কক্ষের দরজা ভেঙে পালিয়ে যান তিনি। পরে লিবিয়ার বেনগাজীতে পুলিশের হাতে আটক হয়ে দুই মাস জেলে ছিলেন। সেখান থেকেই আইওএমের সহায়তায় দেশে ফেরেন।
তিনি বলেন, “আমরা ১৫ জন এক রুমে ছিলাম। এক রাতে পাহারাদারদের একজন খাবার আনতে গেলে আরেকজন ঘুমিয়ে পড়ে। তখন তাকে বেঁধে দরজার তালা ভেঙে পালিয়ে যাই।”
এ ঘটনায় গত ১৫ ফেব্রুয়ারি নবীগঞ্জ থানায় মানবপাচার আইনে মামলা করেন রায়হানের বাবা আবু তাহের চৌধুরী। মামলায় উল্লেখ করা হয়, রায়হানের সহপাঠী শামীম ও তার সহযোগীরা ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে তাকে বিদেশে নিয়ে যায় এবং পরে লিবিয়ায় জিম্মি করে নির্যাতন চালায়।
মামলার বাদী আবু তাহের চৌধুরী বলেন, “জমি ও স্বর্ণ বিক্রি করে ২৭ লাখ টাকার বেশি দিয়েছি। তারপরও ছেলেকে ছাড়েনি। এখন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।” দেশে ফিরে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হবেন জানিয়ে রায়হান বলেন, “আমি এর বিচার চাই।”
