আখাউড়ায় অবৈধ সংযোগে রেলের বিদ্যুতের ব্যবহার, বিল দিচ্ছে রেল
বাদল আহাম্মদ খান, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬, ০৯:৫৭ পিএম
ছবি : ভোরের কাগজ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে রেলওয়ের বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে রেলওয়ে কলোনির শতাধিক বাসা ও দোকানপাটে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হলেও এর অতিরিক্ত বিল গুনতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এই অবৈধ ব্যবহার চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পল্লী বিদ্যুৎ থেকে বিদ্যুৎ নিয়ে রেলওয়ের অফিস ও কোয়ার্টারগুলোতে সরবরাহ করে রেল কর্তৃপক্ষ। এই বিদ্যুৎ সরবরাহ ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছে রেলওয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতি মাসে পল্লী বিদ্যুৎকে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত বিল পরিশোধ করতে হয় রেলওয়েকে।
আরও জানা গেছে, আখাউড়া রেলওয়ে জংশনে বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসনের জন্য স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় আড়াইশ’র বেশি বাসা রয়েছে। তবে এসব সরকারি আবাসনের পাশাপাশি গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ বাসাবাড়ি ও দোকানপাট।
সরেজমিনে কুমারপাড়া কলোনি, পশ্চিম কলোনি ও পূর্ব কলোনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অনেক বাসায় বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও নেই কোনো মিটার। ফলে যার যেমন ইচ্ছা, তেমনভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বাসা ও দোকানে লাইট, ফ্যানের পাশাপাশি টেলিভিশন, ফ্রিজ, আয়রনসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পুরো বিল বহন করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এতে রেলের বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। একই সঙ্গে সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বিদ্যুৎ অফিসের লোক পরিচয়ে অবৈধ সংযোগের বিপরীতে মাসে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকার বেশি আদায় করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রেলওয়ে কর্মচারী বলেন, “অবৈধ সংযোগের কারণে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। এতে রেলওয়েকে অনেক বেশি বিল দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে করা হলে বিল অনেক কমে আসবে।”
তিনি আরও বলেন, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা গেলে রেলের আর্থিক ক্ষতি কমবে এবং বিদ্যুতের অপচয়ও রোধ হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া রেলওয়ে জংশনের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মো. মাহবুবুল আলম বলেন, “কিছু অবৈধ সংযোগ রয়েছে। আমরা মাঝে মাঝে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান চালাই। তবে রেলের জায়গায় অবৈধভাবে বসবাসকারীদের উচ্ছেদ না করা পর্যন্ত পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।”
অবৈধ সংযোগের বিপরীতে টাকা আদায়ের অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “আমার জানা মতে এ ধরনের কোনো তথ্য নেই।”
